খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিখ্যাত দর্শন ছিল ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো’। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সময় বাস্তবতা ভিন্ন ছিল। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় ১৮ মাসের মধ্যে দেশের ৩০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে দরিদ্র তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে, জনগণ স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাচ্ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার হাতে ছিল দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনার বিরল সুযোগ। তিনি নিজের পছন্দমতো উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী নিয়োগ দিয়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে পারতেন। এছাড়া বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং ছাত্র-জনতার সমর্থন থাকায় রাজনৈতিক বাধা ছিল কম।
তবে তার শাসনামলে অর্থনীতি বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর প্রফেসর আবদুল বায়েস বলেন, ‘প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধি ছাড়া অর্থনীতির সব সূচকই নিম্নমুখী ছিল। শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগ কমে গেছে, বেকারত্ব ও দরিদ্রতার হার বেড়েছে।’
নিম্নের টেবিলে প্রধান অর্থনৈতিক সূচকের বিবরণ দেখানো হলো:
| সূচক | ২০২৪ সালের জুন | ২০২৫ সালের জুন | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| বেসরকারি বিনিয়োগ (% জিডিপি) | ২৪.০ | ২২.৪৮ | -১.৫২ পয়েন্ট |
| বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন (%) | ১১.৫ | ১১.৫ | ন্যূনতম |
| ব্যাংকের খেলাপি ঋণ (%) | ২০.২ | ৩৫.৭৩ | +১৫.৫১ পয়েন্ট |
| সরকারি ঋণের পরিমাণ (টাকা কোটি) | ২২,৫০,৯০৪ | ২৩,২৪,০০৫ | +৭৩,১০১ |
বিদেশি রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বড় জোর ‘উপকরণ’, লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদনক্ষমতা, কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, এবং নীতিগত স্বাধীনতা। রিজার্ভ বৃদ্ধি করতে শিল্প ও জনজীবনে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করেছে।
ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গণতন্ত্র, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি দমন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে। কিন্তু তার আমলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের কর ছাড়, গ্রামীণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সুবিধা এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলোও প্রকাশ্যে এসেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি সীমিত করে, শিল্প খাতকে চাপের মধ্যে রাখার মাধ্যমে রিজার্ভ বৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করা হলেও দরিদ্রতা ও বেকারত্ব কমানো সম্ভব হয়নি। তার ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিংসরণ) নীতির প্রতিফলন বাস্তব জীবনে দেখা যায়নি।
সচেতন মহল এখন প্রশ্ন করছে: বিদায় নেওয়ার পরও ড. ইউনূস কি আবার এই ‘তিন শূন্য’ অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বকে প্রেরণা দিতে পারবেন? তার শাসনামলের পাঠ এবং ভুল থেকে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারকদের শিক্ষা নেওয়াই এখন সময়োপযোগী চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য