চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হল্ট স্টেশনে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজ শিশুসন্তানকে প্ল্যাটফর্মে রেখে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নিলুফা খাতুন (২৫) নামের এক নারী। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিনগত রাত ১২টার দিকে স্টেশন এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পথচারীরা মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নিলুফা খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর বাপের বাড়ি দর্শনার ডিহি কৃষ্ণপুর গ্রামে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও স্টেশন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে আনুমানিক চার বছর বয়সী সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দর্শনা হল্ট স্টেশনে ঘোরাফেরা করছিলেন নিলুফা। রাত ১২টার দিকে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের মুখে তিনি সন্তানকে নিরাপদ দূরত্বে বসিয়ে রেখে হঠাৎ রেলপথের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ট্রেনের আঘাতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে ছিটকে পড়েন।
স্টেশনে উপস্থিত লোকজন এবং যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে এসে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাঁকে দর্শনার একটি স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়; পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ক্লিনিকের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে সঙ্গে থাকা শিশুটি অলৌকিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত নিলুফা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাতেও তেমন কোনো সুফল না পাওয়ায় পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই মানসিক অস্থিরতা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।
ঘটনার খবর পেয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে স্থানীয় রেলওয়ে পুলিশ। দর্শনা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের কাছে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তাঁর স্বজন ও স্বামীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে চার বছরের শিশুটিকে পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতের মরদেহ এবং অক্ষত শিশুটিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



