বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত নওগাঁ-১ আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরীকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি (রবিবার) রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডা. ছালেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকমান্ডের নির্দেশক্রমে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মূলত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারণায় লিপ্ত হওয়াই তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থার মূল কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ডা. ছালেক চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন এবং বর্তমান সংকটের মূল প্রেক্ষাপট নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
ডা. ছালেক চৌধুরীর রাজনৈতিক পরিচিতি ও বহিষ্কারের প্রেক্ষাপট
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নাম ও পদবি | ডা. ছালেক চৌধুরী, সভাপতি, নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপি। |
| নির্বাচনী আসন | নওগাঁ-১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর)। |
| সাফল্যের খতিয়ান | ১৯৯৬ (৬ষ্ঠ ও ৭ম সংসদ) এবং ২০০১ (৮ম সংসদ) নির্বাচনে বিজয়ী। |
| বর্তমান অবস্থান | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বৈধতা লাভ। |
| বহিষ্কারের কারণ | দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ। |
| দলের বর্তমান প্রার্থী | মোস্তাফিজুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক, নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপি)। |
বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ডা. ছালেক চৌধুরী জানান, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ পাননি। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি কোনো শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেননি। মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এর আগেই আমাকে বহিষ্কার করা দুঃখজনক।” একইসাথে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা দলের ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে, তারা অচিরেই এর ফল ভোগ করবে।
উল্লেখ্য, নওগাঁ-১ আসনে এবার বিএনপি ডা. ছালেক চৌধুরীর পরিবর্তে তরুণ ও সাংগঠনিক নেতা মোস্তাফিজুর রহমানকে মনোনয়ন প্রদান করেছে। দলের এই সিদ্ধান্তে ছালেক চৌধুরীর অনুসারীরা সংক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। বিএনপির হাইকমান্ড থেকে একাধিকবার হুশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রার্থিতা থেকে সরে না আসায় শেষ পর্যন্ত এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো। নওগাঁর স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতার বহিষ্কার আসন্ন নির্বাচনে আসনটির ভোট যুদ্ধে কেমন প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।



