খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একটি আবাসিক হলের কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে এই অভিযান পরিচালিত হয়। হল প্রশাসন ও হল সংসদের এই যৌথ অভিযানে ২১ বোতল বিদেশি মদ জব্দের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত শিক্ষার্থীর নাম ফজলে আজওয়াদ, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (৫১তম ব্যাচ) ছাত্র। অভিযানের সময় জানা যায়, ফজলে আজওয়াদ জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ও সামনে এসেছে; তাঁর বাবা ওই এলাকার পারারামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি। হল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আজওয়াদ ওই হলের কোনো বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী নন, বরং দীর্ঘ দিন ধরে ৭২৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে অবস্থান করে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোপন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ কোনো সাধারণ উৎস থেকে আসেনি। জামালপুরের তারটিয়া সংলগ্ন বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত এলাকা দিয়ে এগুলো অবৈধভাবে দেশে আনা হয়েছিল। ‘সালমান’ নামের জনৈক ডিলারের মাধ্যমে এসব মাদক সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে মজুদ করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মাদকের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বিশাল মজুদ গড়ে তোলা হয়েছিল।
নিচে এই ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | ঘটনার বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অভিযানস্থল | জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, কক্ষ নং- ৭২৩। |
| উদ্ধারকৃত মাদক | ২১ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ। |
| আটককৃত ব্যক্তি | ফজলে আজওয়াদ (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, ৩য় বর্ষ)। |
| আবাসিক অবস্থা | হলের অবৈধ অবস্থানকারী (নন-অ্যালটেড)। |
| মাদকের উৎস | বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা (ডিলার সালমানের মাধ্যমে)। |
| অভিযান পরিচালনাকারী | হল প্রশাসন ও হল সংসদ। |
এ বিষয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হই যে হলের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে অবৈধ মাদকদ্রব্য মজুদ রাখা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হল প্রশাসন ও হল সংসদ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে ২১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলের বৈধ কেউ নন এবং তাঁর অবৈধ অবস্থান ও মাদক ব্যবসার বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব।”
তিনি আরও জানান, আটককৃত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং মাদক নির্মূল করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্ত থেকে মাদক আসার বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অবহিত করা হতে পারে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।