খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রভাবশালী নেতা মাওলানা মামুনুল হক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূইগড় এলাকায় অবস্থিত দাওয়াতুল কোরআন মাদরাসায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। মাওলানা মামুনুল হক মনে করেন, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ আসীন রয়েছেন, যারা ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করেন।
মতবিনিময় সভায় মামুনুল হক বলেন, “প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ এখনো পুরনো মানসিকতা পোষণ করছেন। তাঁরা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন এবং ইসলামী আদর্শের দলগুলোকে মাঠপর্যায়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো না হলে নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো বৈষম্যের শিকার হতে পারে।
নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত তাঁরা প্রথাগত কোনো বড় রাজনৈতিক জোট গঠন করেননি। বরং বৃহৎ ইসলামী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি ‘ব্যালট বক্স’ নীতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জোটের আসন বিন্যাস নিয়ে কোনো সংকট চলছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই। আমরা শুধু আসন সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করছি। অতি দ্রুতই কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত আসন বিন্যাসের তালিকা ঘোষণা করা হবে।”
নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতি ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট অস্পষ্টতা নিরসনে তিনি নিচে বর্ণিত বিষয়গুলো স্পষ্ট করেন:
| আলোচনার বিষয় | বর্তমান অবস্থা ও মন্তব্য | কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত |
|---|---|---|
| লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড | প্রশাসনের ফ্যাসিস্ট দোসরদের কারণে অত্যন্ত শঙ্কিত। | নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনের দাবি। |
| নির্বাচনী জোট | প্রথাগত জোট নয়, বরং ‘একক ব্যালট বক্স’ নীতি। | আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। |
| নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন | জামায়াত নেতার ব্যক্তিগত ঘোষণা ভিত্তিহীন। | খন্দকার আনোয়ার হোসেন তালিকায় শীর্ষে। |
| আলেমদের বিবৃতি | ১০১ আলেমের বিতর্কিত বিবৃতির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন। | শীর্ষ আলেমদের নাম অপব্যবহারের অভিযোগ। |
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতার পক্ষ থেকে আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে যে খবর ছড়িয়েছে, সে প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নেতার এমন ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। এটি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, যা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন নয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে খন্দকার আনোয়ার হোসেন এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো ঘোষণা গ্রহণযোগ্য হবে না।”
সবশেষে, ১০১ জন আলেমের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিবৃতির বিষয়ে মাওলানা মামুনুল হক বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, এই বিবৃতিতে অনেক শীর্ষস্থানীয় আলেমের নাম তাঁদের সম্মতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক আলেম ইতিমধ্যে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, তাঁরা এই বিবৃতির বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি এই ধরনের অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান এবং ইসলামী দলগুলোর ঐক্য নষ্ট করার যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।