খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিএনপি। শনিবার (১৮ জুলাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর পরই এমন কেন্দ্রীয় অ্যাকশনের শিকার হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় শিল্পাঞ্চলের ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হচ্ছিল। এসব কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছে বিএনপির হাইকমান্ড। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্র থেকে এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে এই বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভালুকা মূলত একটি শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় এখানকার ঝুট ব্যবসা ও কারখানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সব সময়ই রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের দ্বন্দ্ব কাজ করে। ফখর উদ্দিন বাচ্চু সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠ লোকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কারখানার ঝুট ব্যবসা জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ কেন্দ্রে জমা পড়ে। বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব দলের কোনো নেতার এমন ব্যক্তিগত অনিয়ম বরদাশত না করার নীতিগত অবস্থান থেকেই এই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু এই এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম পেয়েছিলেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট। ফলে ৪৪ হাজার ৬২৩ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি ভালুকার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।
এত বড় বিজয়ের পর যেখানে এলাকায় তাঁর অবস্থান আরও সুসংহত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এই শোকজের নোটিশ তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সাধারণ ভোটার ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন—বাচ্চু কি কেন্দ্রের এই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন, নাকি তাঁকে আরও বড় ধরনের সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে? এই ঘটনার পর ভালুকা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।