খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ২:৩৬ পিএম
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অভিনব কায়দায় প্রাইভেটকারে করে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই চালানের সন্ধান মেলে। জব্দকৃত চালানে মোট ১৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে, যা মহাসড়ক ব্যবহার করে রাজধানী অভিমুখে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার নাসিরাবাদ এলাকার মৃত আবদুল আজিজের ছেলে মো. ফিরোজ (৪৬) এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামের মৃত দুলাল গাজীর ছেলে মো. মিলন গাজী (৩৮)।
দাউদকান্দি থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রাইভেটকারে করে মাদকের একটি বড় চালান ঢাকার দিকে যাচ্ছে, এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদ আসে থানা প্রশাসনের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পলাশের নির্দেশে পুলিশের একটি চৌকস দল সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় ওত পেতে থাকে। ঢাকাগামী সন্দেহভাজন গাড়িগুলোর ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
সকালের দিকে নির্দিষ্ট একটি প্রাইভেটকার টোলপ্লাজা পার হbওয়ার সময় সেটিকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। গাড়িটি থামানোর পর চালক ও ভেতরে থাকা আরোহীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সদস্যরা পুরো গাড়িতে তল্লাশি চালানো শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রাইভেটকারের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়।
দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পলাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ সবসময়ই তৎপর রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি পেশাদার মাদক কারবারি চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদকের চালান সরবরাহ করে আসছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য লাখ লাখ টাকা। এই ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় মাদকের গডফাদার জড়িত রয়েছে কি না, তা জানার জন্য আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য