খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৩ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে দিনভর আটকা থাকার পর সন্ধ্যায় পুলিশের শক্তিশালী পাহারায় কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তারা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবনে অবস্থান নেন। ওই সময় কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। দুপুরে একবার তারা বের হওয়ার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ফের ফিরে আসেন। এরপর থেকে তারা একাডেমিক ভবন ৭-এর দ্বিতীয় তলায় অবস্থান নেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পর তারা পুলিশি গাড়িবহরে কলেজ ত্যাগ করেন। তাদের গাড়ি দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ডিপো এলাকা হয়ে চলে যায়।
মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা তাদের ছয় দফা দাবি জানিয়েছিল। ওই দাবিগুলো হলো —নিহত ব্যক্তিদের সঠিক নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা, আহত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো প্রশিক্ষণ বিমান বাতিল করে আধুনিক ও নিরাপদ বিমান চালু করা, বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও কেন্দ্র সংস্কার করে আরও মানবিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষকদের ওপর সেনাবাহিনীর সদস্যদের হামলার জন্য জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টার দিকে দুই উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি কনফারেন্স কক্ষে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে আসিফ নজরুল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক বলে স্বীকার করে আশ্বাস দেন যে সরকার তাদের সব দাবি পূরণ করবে। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস রাখুন, শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ করা হবে। আমরা তাদের ভালোবাসি।”
তবে উপদেষ্টাদের আশ্বাস সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে যখন উপদেষ্টারা দিয়াবাড়ি মোড়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন শিক্ষার্থীরা বাধা প্রদান করে তাদের পদত্যাগের দাবি জানায়। বাধার মুখে তারা ফের মাইলস্টোনে ফিরে যান।
গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুলের একাডেমিক ভবনে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৫ জন আহত হন। হতাহতদের অধিকাংশই ওই স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী।
এই ঘটনায় স্কুল ক্যাম্পাস ও আশপাশে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষোভের মধ্যে অবস্থানরত উপদেষ্টাদের নিরাপত্তায় সরকারি পদক্ষেপও জোরদার হয়েছে।
খবরওয়ালা/আশ