খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের নিরাপত্তা এবং নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে দেশের দুটি প্রধান উপকূলীয় জেলার ওপর দিয়ে তীব্র বেগে ক্ষণস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উক্ত অঞ্চলসমূহে প্রবল বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে রাষ্ট্রীয় আবহাওয়া পূর্বাভাসে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্ক বার্তায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক সতর্ক বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আজ সন্ধ্যার মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দুই জেলা অর্থাৎ চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের ওপর দিয়ে তীব্র ঝড় বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে এই অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া ধাবিত হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং যেকোনো সময় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় এই ঝড়ের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে।
উদ্ভূত আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের তিনটি সুনির্দিষ্ট জেলার নদীবন্দরসমূহকে অনতিবিলম্বে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নৌযান চলাচল সচল ও নিরাপদ রাখার স্বার্থে এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ছোট যাত্রীবাহী ট্রলার, নৌকা এবং মাছ ধরার নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা মৌসুমের প্রাক্কালে বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে প্রায়শই এই ধরনের ক্ষণস্থায়ী ঝড়ের সৃষ্টি হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলগুলোতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব সবার আগে অনুভূত হয়। ফলে হঠাৎ করে মেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধি পেয়ে বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
আজ ১ জুন সন্ধ্যার মধ্যে দেশের আবহাওয়ার সম্ভাব্য পরিস্থিতি ও নদী বন্দরসমূহের সতর্কতার সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| আবহাওয়ার বিবরণ ও খাত | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| পূর্বাভাসের কার্যকারিতার তারিখ | ১ জুন, ২০২৬ (আজ সোমবার) |
| পূর্বাভাসের সুনির্দিষ্ট সময়কাল | সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত |
| সতর্কবার্তা জারি করা জেলাসমূহ | চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার |
| সম্ভাব্য বাতাসের গতিবেগ | ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার |
| ঝড়ের সম্ভাব্য দিক | পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে |
| প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরন | ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং বৃষ্টি |
| প্রদর্শিত সতর্ক সংকেতের মাত্রা | ১ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত |
| সতর্কবার্তা প্রদানকারী আবহাওয়াবিদ | এ কে এম নাজমুল হক |
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নদী অববাহিকা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জনগণকে বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর পরবর্তী সময়ে বুলেটিন বা বার্তা প্রকাশ করবে।