খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৬:৩৬ এএম
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে সারা দেশে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। এর ফলে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সার্বিক বন্যা ও পাহাড় ধস পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার থেকে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার রাতে জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌসের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সাথে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টানা দুই দিনের অতি ভারী বৃষ্টির কারণে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলের সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই আবহাওয়াজনিত সংকট বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, প্রাকৃতিক ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম এলাকায় পর্যটকসহ সর্বসাধারণের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সাথে স্থানীয় ট্যুর অপারেটরদের এই সময়ে কোনো ধরনের বুকিং বা ভ্রমণ কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রবল বর্ষণের ফলে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে থানচি ও আলীকদম উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
থানচি উপজেলা: সোমবার উপজেলার দুর্গম তিন্দু এলাকায় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। তবে নৌকায় থাকা যাত্রীরা দ্রুত সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আলীকদম উপজেলা: এই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শত শত একর ফসলি জমি ডুবে গেছে, যার ফলে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের কারণে রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুকের সতর্কবার্তা: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলে, বিশেষ করে বান্দরবানের বিভিন্ন উপত্যকা ও পাহাড়ি ঢালে মারাত্মক ভূমিধসের (Landslide) উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে।
পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ শুরু করেছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (Control Room) খোলা হয়েছে।
মন্তব্য