খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশ বর্তমানে একটি গভীর ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশে নানা ধরনের গুজব, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাঁর আশঙ্কা, পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি বেসরকারি সংস্থা মানবকল্যাণ পরিষদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে স্থানীয় আলেম–ওলামাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।
সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা যেন আর অন্ধকারের দিকে ফিরে না যাই। নিজেদের মধ্যে বিভাজন, অনৈক্য ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীরা সেই সুযোগ নেবে। এতে আবারও দেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।” তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করার নানা অপচেষ্টা চলছে, যা প্রতিহত করা এখন সময়ের দাবি।
আলেম–ওলামাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপিকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল বার্তা ছড়ানো হচ্ছে—যেন দলটি কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আইন মানে না। তিনি এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে বলেন, “নাউজুবিল্লাহ। আমরা সব সময় কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে চলতে বিশ্বাস করি। এই দেশের আইন-কানুন যেন কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে না যায়, সে ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আসন্ন নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। তাই এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে, অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে সীমিত কিছু ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ধনী করেছে। ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিরোধী রাজনৈতিক দল, আলেম–ওলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেককে গ্রেপ্তার, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সে সময় আলেম সমাজসহ সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে।
শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা শান্তি চাই। এই নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় আলেম–ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।