খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
হামের প্রাদুর্ভাব কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে আজ সোমবার থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে বিশেষ ও জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা।
আজ সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কের ‘লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে’ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে দেশের সকল স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান করা হবে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা এবং ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য এলাকায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় টিকাদানের সময়সীমা নিম্নরূপ:
| এলাকা বা পর্যায় | শুরুর তারিখ | সমাপ্তির তারিখ |
| প্রথম ধাপ (১৮ জেলার ৩০ উপজেলা) | ৫ এপ্রিল | ২৫ এপ্রিল |
| দ্বিতীয় ধাপ (৪টি সিটি করপোরেশন) | ১২ এপ্রিল | ১২ মে |
| বর্তমান দেশব্যাপী জরুরি কর্মসূচি (সিটি এলাকা) | ২০ এপ্রিল | ২০ মে |
| বর্তমান দেশব্যাপী জরুরি কর্মসূচি (অন্যান্য এলাকা) | ২০ এপ্রিল | ১২ মে |
হাম এবং রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং অন্ধত্বের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে হাম। অন্যদিকে, গর্ভাবস্থায় রুবেলা সংক্রমিত হলে গর্ভস্থ শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। সরকারের এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য হলো নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদের পুনরায় সুরক্ষার আওতায় এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সসীমার সব শিশুই এই টিকা পাওয়ার যোগ্য। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
অসুস্থ শিশু: যেসব শিশু বর্তমানে জ্বরে ভুগছে বা অন্য কোনো গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত, তাদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া যাবে না। সুস্থ হওয়ার পর তারা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবে।
সময়ের ব্যবধান: কোনো শিশু যদি সম্প্রতি হামের প্রথম ডোজ গ্রহণ করে থাকে, তবে দ্বিতীয় ডোজ বা এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের টিকার জন্য কমপক্ষে চার সপ্তাহ বা ২৮ দিন অপেক্ষা করতে হবে। সময়ের এই ব্যবধান পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত টিকা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
বয়সসীমা: কেবল ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস (প্রায় ৫ বছর) বয়সী শিশুদের জন্যই এই কর্মসূচি নির্ধারিত।
ইপিআই-এর সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল ও ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে লক্ষ্যমাত্রার ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুর কেউই এই সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। দেশের প্রতিটি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র ছাড়াও পাড়া-মহল্লার অস্থায়ী কেন্দ্রগুলো থেকে শিশুদের এই টিকা কার্ড অনুযায়ী প্রদান করা হচ্ছে।
সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত হাম-রুবেলা নির্মূল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সকল অভিভাবককে তাদের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।