খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা, অনলাইন ডেস্ক: কিছু ভুল-ত্রুটি ও ব্যর্থতা থাকলেও দেশের অর্থনীতিকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে দিন-রাত অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ কিছু কিছু কাজ বাইরে থেকে বলা যত সহজ, আসলে তা ততটা সহজ নয়। ভেতর থেকে বুঝা যায় যে, একটি সমস্যার সমাধান করতে গেলে আরেকটি সমস্যা সামনে চলে আসে। স্বাভাবিকভাবেই সরলীকরণ করে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি আমাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এটি দুই-তিন বছর ধরে চলছে, তবে এখন ধারাবাহিকভাবে কমার দিকে। খাদ্য ও নন-ফুড আইটেমের দাম কিছুটা কমেছে, তবে তা এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। মানুষের আয় ও ব্যয় নির্বাহের ওপর চাপ পড়েছে। মূল্যস্ফীতির পেছনে চাহিদা ও সরবরাহজনিত কারণ রয়েছে, যা শুধু দেশীয় নয়, বৈশ্বিক প্রভাবও রয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘জুলাই-আগস্টের ঘটনার পর অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ ছিল, যার প্রভাব সরবরাহ চেইনে পড়েছে। বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে চালের উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। আমরা বাইরে থেকে চাল, ডাল ও গম আমদানির চেষ্টা করছি। টিসিবির মাধ্যমে ওএমএস (খোলা বাজার বিক্রয়) চালু আছে এবং ট্রাক সেল আবার চালু করা হচ্ছে। রোজার মধ্যে ট্রাক সেল বন্ধ রাখা যাবে না।’
চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরবরাহ চেইনে চাঁদাবাজি একটি বড় সমস্যা। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্য পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় অনেক মধ্যস্বত্বভোগী জড়িত থাকে, যারা চাঁদা আদায় করে। এতে পণ্যের দাম বাড়ে এবং কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা স্থানীয় পর্যায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি না, তবে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’
শিল্পখাতের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের শিল্পখাত আগে থেকেই পিছিয়ে আছে। সম্প্রতি কিছু খাতে উৎপাদন কমেছে, যা প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে। শিল্পখাতকে গতিশীল করতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তবে ব্যাংকগুলোর লিকুইডিটি সংকট এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ঋণ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছি।’
জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎখাত মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে, তবে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। আমরা বিকল্প জ্বালানির দিকে নজর দিচ্ছি। এ ছাড়া স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করছি। বড় প্রকল্পের চেয়ে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘মানুষের জীবনযাত্রার বাজেটে চাপ পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় মানুষের আয় বাড়েনি। আমরা চেষ্টা করছি এই চাপ কমাতে। তবে রাজনৈতিক সরকারের মতো আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। আমরা সরকারি কর্মচারী, তাই আমাদের কাজের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের ঘটনার পর অনেক বড় ব্যবসায়ী দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরা এখন স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।
খবরওয়ালা/টিএ