খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে নতুন করে দাম বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বর থেকে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজেলের নতুন দাম লিটারপ্রতি ১০৪ টাকা, যা আগের ১০২ টাকার তুলনায় বেড়েছে। পেট্রল প্রতি লিটার ১২০ টাকা এবং অকটেন ১২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেরোসিনের দামও ১১৬ টাকা, যা পূর্বের ১১৪ টাকার তুলনায় ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকার গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দর বিবেচনা করে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণের নীতিমালা ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছে, দেশে ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি ব্যবহৃত অকটেন ও পেট্রলের দাম ডিজেলের তুলনায় বেশি রাখা হয়। কারণ, এসব জ্বালানি সাধারণ জনসাধারণের দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য নয়, বরং কিছু পরিমাণে বিলাসী বা লাক্সারি ব্যবহার হিসেবে বিবেচিত।
দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারণ করছে বিমান ব্যবহারের জেট ফুয়েলের দাম। ফার্নেস তেলের দাম সমন্বয়ের প্রস্তাবও বিইআরসির কাছে জমা আছে। আর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম সরাসরি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নির্ধারণ করে থাকে।
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, ডলারের মূল্য পরিবর্তন এবং স্থানীয় সরবরাহ খরচ—all মিলিয়ে এ দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সরকারের পক্ষ থেকে বাজারকে স্বচ্ছ এবং পূর্বাভাসযোগ্য রাখার একটি উদ্যোগ। তবে সাধারণ মানুষ এবং পরিবহণ খাতের জন্য প্রতি মাসের এই নিয়মিত বৃদ্ধি কার্যত ব্যয় বৃদ্ধি হিসেবে দেখা দেয়।
ডিসেম্বরের এই সমন্বয়ের ফলে দেশের সড়কপথ ও ব্যক্তিগত যানবাহনে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাবে। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তেল সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হবে না।