খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২০ পিএম
দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ১০১ জনের মধ্যে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৮ জনে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের হিসাবে, গত এক দিনে মারা যাওয়া ছয়জনের কারও পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়নি; তারা সবাই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। একই সময়ে এক হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা দেশে সংক্রমণের বিস্তৃতি ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৯০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮০৯ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে। আর পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে এমন রোগীদের মধ্যে, যাদের শরীরে হামের মতো উপসর্গ ছিল।
একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মানুষের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। সন্দেহজনক রোগী ও নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। এর অর্থ হলো, বিপুলসংখ্যক মানুষ হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছেন, যদিও সবার ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাব পরিস্থিতির তীব্রতাও স্পষ্ট করছে। এক দিনে ছয়জনের মৃত্যু এবং এক হাজার ১০১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া দেখাচ্ছে যে সংক্রমণ এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিদিন নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগী ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষা এবং চিকিৎসার চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে এটি সহজেই অন্যের মধ্যে ছড়াতে পারে। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, জনসমাগম বেশি অথবা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত, সেখানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যখন তাদের পুষ্টিগত দুর্বলতা বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকে।
হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়া উল্লেখযোগ্য। তবে উপসর্গ দেখা দিলে শুধু লক্ষণের ভিত্তিতে রোগ নিশ্চিত না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা অন্যান্য গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা জোরদার করা প্রয়োজন।
হাম প্রতিরোধে টিকাদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলোর একটি। তাই যেসব শিশুর নিয়মিত টিকাদান অসম্পূর্ণ রয়েছে, তাদের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে পরিবারকে সচেতন করা জরুরি। পাশাপাশি জ্বর ও র্যাশসহ হামের উপসর্গ দেখা দিলে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখা এবং দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
গত পাঁচ মাসে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৪২ হাজারের বেশি এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজারে পৌঁছানো পরিস্থিতির ব্যাপকতা বোঝাচ্ছে। এর সঙ্গে ৯০৮ মৃত্যুর হিসাব যুক্ত হওয়ায় হাম নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে নতুন রোগী ও মৃত্যুর প্রবণতা পরিস্থিতির গতিপথ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।
মন্তব্য