খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম
চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা একটি সভা ও দোয়া মাহফিল থেকে পাঁচজন আইনজীবীসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে একটি বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনজীবী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবার বাসভবনে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে কয়েকজন আইনজীবীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উপস্থিত ব্যক্তিদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, অ্যাডভোকেট কামেলা খানম, অ্যাডভোকেট আয়েশা হেভেন, অ্যাডভোকেট সুজলা অন্তরা ও অ্যাডভোকেট শারমিন ইয়াসমিন নিশু রয়েছেন। অন্যরা হলেন ইস্কান্দার মির্জা, সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, শুভ আইচ, মশিউর রহমান আবির, জাকির হোসেন এবং জীশু রায় চৌধুরী।
রোববার দুপুরে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার রাতে থানার আওতাধীন একটি স্থান থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই থেকে তিনজন আইনজীবী রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে আটক সবাই আইনজীবী নন।
ওসি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখা থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কী ধরনের অভিযোগ বা কোন নির্দিষ্ট আইনি ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে গ্রেপ্তারের আইনি ভিত্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আদালতপাড়ায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম আদালত এলাকায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আইনজীবী মহলে গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যদের বিষয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন জানান, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারছেন না। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
সমিতির সভাপতি তারিক আহমদ বলেন, তিনি সমিতির সব সদস্যের সভাপতি হিসেবে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পেশাগত ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে না পারলেও পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ১৫ আগস্ট ঘিরে বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে কোনো রাজনৈতিক বা স্মরণসভা আয়োজনের ক্ষেত্রে পুলিশের অনুমতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে ডবলমুরিংয়ের এই অভিযানের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয় এবং আদালতে তাঁদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটিই এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তাঁদের আইনগত অবস্থান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা ও ধারার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে গ্রেপ্তারের কারণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
মন্তব্য