কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় মাকে কুপিয়ে এবং ছয় মাস বয়সী ভাতিজিকে আছাড় দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইমন (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর ভাবী রাবেয়া আক্তার। ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন ইমনের মা মোছা. ফিরোজা বেগম এবং তাঁর ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহান। আহত রাবেয়া আক্তারকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার সময় ইমন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে একটি দা হাতে নিয়ে তাঁর মা ফিরোজা বেগমের ওপর হামলা চালান। এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এরপর ইমনের ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহানকেও আছাড় দিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। শিশুটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে রাবেয়া আক্তারের ওপরও হামলা করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলার শব্দ ও চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা আহত রাবেয়া আক্তারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। একই সময় স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
ইমনের বড় ভাই মো. সুজন জানান, ২০১৮ সালে পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইমন বাড়িতেই থাকতেন। তাঁর পায়ে দুইবার অস্ত্রোপচারও হয়েছে। সুজনের দাবি, এরপর থেকেই ইমনের আচরণে মানসিক সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা দিয়েছিল।
সুজন জানান, সোমবার সকাল ৭টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারেন, তাঁর মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী রাবেয়া আক্তার হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পারিবারিক কোনো বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কি না, কিংবা হঠাৎ উত্তেজনার বশে হামলা চালানো হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইমনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে আটক করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, হামলার পুরো ঘটনাক্রম কীভাবে ঘটেছে এবং এতে আর কেউ জড়িত ছিল কি না—তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আহত রাবেয়া আক্তারের চিকিৎসা ও তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু এবং একজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।


