খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১০ পিএম
প্রথম বিবাহবার্ষিকীর দিনটি আনন্দে কাটানোর কথা ছিল লিজা আক্তার ও তাঁর পরিবারের। স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী এই গৃহবধূ। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ পথচলা। রংপুরের পীরগাছায় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের চাপায় নিহত হয়েছেন লিজা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর স্বামী শামীম মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার রাত ৮টার দিকে পীরগাছা উপজেলার সাতদরগাহ-রংপুর সড়কের কালীস্থান এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে প্রথম বিবাহবার্ষিকীর দিন বাবার বাড়িতে যাওয়ার পথে এমন করুণ পরিণতি স্বজনদের জন্য আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।
নিহত লিজা আক্তার উপজেলার গুয়াবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী লাভলু মিয়ার মেয়ে। তাঁর স্বামী শামীম মিয়া অন্নদানগর ইউনিয়নের বামনসর্দার গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাবার বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন লিজা। সাতদরগাহ-রংপুর সড়কের কালীস্থান এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে লিজা ও শামীম দুজনই গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই লিজা আক্তারের মৃত্যু হয়। তাঁর স্বামী শামীম মিয়ার অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করতে সক্ষম হন। তবে ট্রাকের চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ফলে দুর্ঘটনার পরপরই তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মালিক জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একটি পরিবারের কাছে বিবাহবার্ষিকী সাধারণত নতুন জীবনের স্মৃতি, আনন্দ ও ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনার দিন। লিজা আক্তারের পরিবারের জন্য সেই দিনটিই এবার হয়ে রইল অপূরণীয় ক্ষতির স্মৃতি। বাবার বাড়িতে যাওয়ার যে স্বাভাবিক পারিবারিক যাত্রা ছিল, বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে তা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকাবহ ঘটনায়।
সড়কে দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের চলাচল ছোট যান ও মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণ, বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের প্রতি সতর্কতা এবং সড়ক ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও আহতদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লিজার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য