খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘শাপলা হলে’ এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। নবগঠিত সরকারের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং আগামীর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের মাঠপর্যায় থেকে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেশপ্রেমের এক বলিষ্ঠ বার্তা প্রদান করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা এই প্রিয় বাংলাদেশকে আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। সুতরাং, এই মাটির মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের মহান দায়িত্বও আমাদেরই কাঁধে। দেশের মানুষ অনেক স্বপ্ন এবং আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে এই সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেবল সরকারের নির্দেশ পালনকারী নন, বরং তারা সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও কর্মদক্ষতা ছাড়া কোনো জনকল্যাণমূলক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে উল্লিখিত প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের আমূল সংস্কার, নারী শিক্ষার প্রসার, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্রীড়া জগতের উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “প্রশাসন থেকে দুর্নীতি দূর করতে আপনাদের সাহসী ও আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সভায় আলোচিত প্রধান খাত ও দিকনির্দেশনাগুলো নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| অগ্রাধিকার প্রাপ্ত খাত | প্রধানমন্ত্রীর প্রধান নির্দেশনা ও লক্ষ্য |
| শিক্ষা ও স্বাস্থ্য | মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। |
| নারী ও কর্মসংস্থান | নারী শিক্ষার প্রসার এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। |
| সুশাসন ও দুর্নীতি | স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ। |
| রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা | রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে দাপ্তরিক গোপনীয়তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা। |
| ক্রীড়া ও সংস্কৃতি | আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন। |
প্রশাসনিক কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব এবং গোপনীয়তা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে গোপনীয়তার বিষয়গুলো যথাযথভাবে মেনে চলা প্রতিটি কর্মকর্তার আবশ্যিক দায়িত্ব। এটি কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ।
উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান এবং মাহ্দী আমিন উল্লেখযোগ্য। উপদেষ্টাগণও নিজ নিজ দপ্তরের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার কার্যালয়ের প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ ত্যাগ ও নিষ্ঠার পরিচয় দেবেন।