ঢাকার ধামরাইয়ে যুবলীগের কর্মী ইঞ্জিনিয়ার রিফাত আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে না পেয়ে বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, কলিম উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যদিকে পুলিশের ভাষ্য, তাঁর কোনো দলীয় পদ না থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ছেলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনের বয়স ৬০ বছর। তিনি ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ছেলে প্রকৌশলী রিফাত আহমেদ যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য কলিম উদ্দিনের বাড়িতে যান। পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর কলিম উদ্দিন দরজা খুলে দেন। তখন বাড়িতে তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম, মেয়ে এবং ছেলের বউও ছিলেন।
হাসিনা বেগম জানান, পুলিশ প্রথমে তাঁদের ছেলে রিফাত আহমেদের বিষয়ে জানতে চায়। রিফাত বাড়িতে নেই এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও যোগাযোগ নেই—এ কথা জানানো হয় পুলিশকে। এরপর কলিম উদ্দিনকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হয় এবং রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়।
কলিম উদ্দিনের পরিবারের দাবি, তিনি কৃষিকাজ ও গরু পালনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পদেও ছিলেন না। ছেলে রাজনীতি করলেও তার দায়ে বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
কলিম উদ্দিনের মেয়ে হ্যাপী আক্তার বলেন, তাঁর ভাই রিফাত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তিনি বাড়িতে আসেন না এবং পরিবারের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ নেই। তাঁর দাবি, বাবা কখনো রাজনীতি করেননি। ভাইকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার করায় পরিবারটি ক্ষুব্ধ।
তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, রিফাত আহমেদ যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত এবং কিছুদিন আগে তাঁর নেতৃত্বে একটি মিছিল হয়েছিল। এরপর কাওয়ালিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি দল রিফাতের বাড়িতে অভিযান চালায়।
কলিম উদ্দিনের নামে আগে কোনো মামলা ছিল কি না এবং তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, তাঁর নামে কোনো মামলা ছিল না এবং তিনি কোনো দলীয় পদধারী নেতা নন। তবে পুলিশ তাঁকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে শনাক্ত করেছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে রিফাত আহমেদ নিজেকে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দলে তাঁর কোনো পদ নেই, তবে তিনি একটি মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বাবাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে তিনি নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেছেন।
ফলে ধামরাইয়ের এই ঘটনায় একই পরিবারের পক্ষ থেকে এক ধরনের বক্তব্য এবং পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা না থাকার বিষয়টি পুলিশও নিশ্চিত করেছে। তবে তাঁকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তার বিস্তারিত অভিযোগ বা মামলার অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


