খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৮:৩৬ এএম
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
নিহতরা হলেন পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা লোকমান মণ্ডল (৫৫) এবং তাঁর স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৫)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে স্বাভাবিক নিয়মেই রাতের খাবার খেয়ে তাঁরা ঘুমাতে যান। এরপর ভোররাত পর্যন্ত তাঁদের বিষয়ে কোনো অস্বাভাবিক কিছু নজরে আসেনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে নিহত দম্পতির ছেলে মুক্তার হোসেন প্রতিবেশীদের ডেকে জানান, তাঁর বাবা-মা কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাঁদের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা খাটের ওপর লোকমান মণ্ডল ও দেলোয়ারা বেগমের নিথর দেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নিহত দম্পতির ছেলে মুক্তার হোসেন নেশা ও মোবাইলে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন বলে এলাকায় পরিচিত। তাঁদের অভিযোগ, নেশার জন্য তিনি প্রায়ই বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। সম্প্রতি টাকা দেওয়া নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। সেই সূত্র ধরে অনেকে ধারণা করছেন, বিষাক্ত কোনো পদার্থ খাইয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বক্তব্য স্থানীয়দের ব্যক্তিগত ধারণা ও অভিযোগের ভিত্তিতে উঠে এসেছে; এখন পর্যন্ত সেগুলোর কোনোটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়াজনিত মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এটি কেবল প্রাথমিক পর্যায়ের ধারণা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর আগে দম্পতির চলাফেরা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সম্ভাবনাকেই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুতে পাহাড়পুর গ্রামে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য