খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
পুরোনো নোট তুলে নিয়ে নতুন নোট ছাপতে বছরে সরকারের খরচ হয় সাড়ে চার থেকে পাঁচশ কোটি টাকা কিন্তু এবার খরচ হতে পারে দেড় হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ছাপানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
কখন নতুন নোট ছাপায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক?
চাহিদা অনুযায়ী প্রতি বছর শুধু নতুন নোট ছাপাতে সরকারের বিপুল টাকা খরচ হয়। এই খরচের লাগাম টানতে ক্যাশলেস কিউআর (কুইক রেসপন্স) লেনদেনে ঝুঁকছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
যে কারণে এবার খরচ বাড়ছে
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন টাকার নকশায় পরিবর্তন আনছে সরকার। সব ধরনের নোটেই নকশা পরিবর্তন হবে। এর আগে ডিজাইন অক্ষুণ্ন রেখে শুধু প্রিন্ট করা হতো। এবার নতুন নোটে থাকবে না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। যুক্ত হবে ধর্মীয় স্থাপনা, বাঙালি ঐতিহ্যসহ জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি। নতুন ডিজাইনের জন্য রয়েছে পারিশ্রমিক। আর আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে নোটের পরিমাণ। কারণ, পুরোনো ডিজাইনের নোট ধীরে ধীরে বাজার থেকে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আগে টাকা ছাপতে বছরে পাঁচশ কোটি টাকার মতো খরচ হলেও এবার খরচ পড়বে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
টাকা ছাপাতে হলে রিজার্ভ ও পর্যাপ্ত গোল্ড থাকতে হবে। চাইলেই টাকা ছাপানো যায় না, কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। সরকার যদি চায় সহায়তা নিতে, সেক্ষেত্রে সরকারের অনুরোধে একটা বাধ্যবাধকতা চলে আসে। সরকার, সেন্ট্রাল ব্যাংক ও বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে টাকা ছাপানো হয়। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন
তবে ঠিক কত টাকার নতুন নোট ছাপা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীলরা। নতুন ডিজাইনসহ নোট বাজারে আনতে ঈদ সামনে রেখে এবার কোনো নতুন নোট বাজারে ছাড়েনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কোন নোট ছাপাতে কত খরচ হয়
এবারের হিসাবটা একটু ভিন্ন হওয়ায় নতুন নোট ছাপাতে লাগছে বাড়তি টাকা। তবে সাধারণ সময়ে নোটপ্রতি খরচের একটি হিসাব আছে। এ হিসাব শুধু ছাপানোর জন্য প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ১০০০ টাকার নোট ছাপাতে ৫ টাকা ও ৫০০ টাকার নোট ছাপানোয় খরচ পড়ে ৪ টাকা ৭০ পয়সা। এছাড়া ২০০ টাকার নোটে তিন টাকা ২০ পয়সা, ১০০ টাকার নোটে ৪ টাকা, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার সবগুলো নোটই দেড় টাকা খরচ পড়ে। এছাড়া ৫ টাকা, ২ টাকার নোট ছাপাতে খরচ পড়ে ১ টাকা ৪০ পয়সা। সবচেয়ে বেশি খরচ হয় কয়েন তৈরিতে। প্রতিটি কয়েনে সমপরিমাণ টাকা খরচ পড়ে যায়। বিশ্বব্যাপী কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে এই খরচ কিছুটা বেড়েছে।
নতুন নকশার নোট বাজারে আসবে কবে?
সূত্র জানায়, সাধারণত দুই ঈদের সময় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও নিজেদের কাছে থাকা নতুন নোট বিনিময় করে। তবে বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েও নোট ছাড়া হয় কোনো কোনো সময়। মূলত বাজারে পরিচ্ছন্ন নোট নিশ্চিতে ছেঁড়াফাটা নোট তুলে নিয়ে যথা নিয়মে ধ্বংস করে নতুন নোট প্রতিস্থাপন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সূত্র: জাগো নিউজ
খবরওয়ালা/এমইউ