ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের একটি গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর ভয়াবহ হামলা, ধর্ষণচেষ্টা ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, গত ১১ মে গভীর রাতে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে তিনজন দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে আলমারির চাবি চায়। চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা তাকে এবং তার খালাতো দেবরকে বেধড়ক মারধর করে। এরপর আলমারি থেকে দুই লাখ টাকা এবং প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।
পরে তারা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার সালোয়ার খুলে ফেলে তাকে বিবস্ত্র করে। এরপর মোবাইলে তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। দুর্বৃত্তরা তাকে ও তার খালাতো দেবরের একসঙ্গে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ১ নম্বর আসামি শফিক মিয়া আয়েশার ইমু নম্বরে কল করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে এবং বলে—প্রয়োজনীয় টাকা না দিলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ তাকে ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ মে) নবীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও ফৌজদারি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা (নং-১৮) দায়ের করা হয়। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি নান্টু মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে।
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যান্য অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
খবরওয়ালা/আরডি



