খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে বৈশাখ ১৪৩২ | ১৩ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
গত ১৭ বছর যারা গর্তে ছিল তারা সংস্কারের তালিম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এখন যারা সংস্কারের কথা বলছে এদের কারও চেহারা আমরা দেখিনি। এদের অনেককে রাস্তায়ও দেখিনি। যখন শেখ হাসিনার ক্ষমতার চাপ এদের ওপর গেছে, তখন এরা গর্তে ঢুকে গেছে, আর গর্ত থেকে বের হয়নি। এখন গর্ত থেকে বের হয়ে এসে সংস্কারের তালিম দিচ্ছে আমাদের।
মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “এখন সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, এখানে যারা বসে আছেন সকলে সংস্কারের লোক। আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, তার আগে ২৭ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, এর আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ দিয়েছেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘আরে শেখ হাসিনা যাওয়ার আগে তো শেখ হাসিনা পরবর্তি বাংলাদেশ কী হবে এটা আমরা মাথায় রেখে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, হাসিনা পরবর্তি কী ধরনের নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়ব, এটাকে মাথায় রেখে আমরা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি।’
বাংলাদেশে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের কাছে যায়নি বলেও দাবি করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
সংস্কার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মালিকানা অন্য কাউকে দেই নাই যারা বাংলাদেশে আগামী দিনে সংস্কার করবে। দেশে সংস্কার হতে হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে। তার বাইরে সংস্কারের সুযোগ নেই। যেসব সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত্য হবে সেগুলোর বিষয়ে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু কেন এটাতে বিলম্ব হচ্ছে?’
জাফরুল্লাহ চৌধুরী দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এই আলোচনা সভা হয়।
দেশে বিনিয়োগ কমছে
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এই সরকারের আচার-আচারণে মনে হচ্ছে দেশ বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্য হয়ে যাচ্ছে। গত দশ মাসে বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে কমছে। আর আমাদেরকে বিনিয়োগের সার্কাস দেখানো হচ্ছে.. আমি কারো নাম বলতে চাই আমি। মানুষ তো বোকা না।
তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার না আসবে ততদিন বিনিয়োগ আসবে না, সেই রিস্কে বিনিয়োগকারীরা যাবে না। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বিনিয়োগের চিত্র হচ্ছে তারা (বিদেশিরা) দেখতে চায়, বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার আছে কি না, একটা স্থিতিশীল সরকার আছে কি না। বিনিয়োগ কোনো শর্ট টার্মের বিষয় না, এটা লং টার্মের ব্যাপার।’
‘মানবিক করিডোর প্রসঙ্গে’
রাখাইনে মানবিক করিডোরের বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, “এটা কার সাথে আলোচনা হয়েছে? এই সরকার কি নির্বাচিত সরকার যে, নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেবে? নির্বাচিত সরকার হলেও তাদেরকে সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এ করিডোর সম্পর্কে কোনো রাজনৈতিক দল জানে না, সিভিল সোসাইটি জানে না… এটা কী? এর পেছনে কী আছে। আমার প্রশ্ন বাংলাদেশকে কি আমরা আরেকটা গাজায় পরিণত করতে চাই? কার স্বার্থে এই দেশকে ওদিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে? এই প্রশ্নগুলো সামনে আসছে। কারা এর পেছনে কাজ করছে, ওই লোকগুলো কারা?’
ভাসানী জনশক্তির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জেএসপির শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, গণস্বাস্থ্য সংস্থার হাবিবুল্লাহ তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
খবরওয়ালা/এসআর