খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের বিশেষ দল ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবহৃত স্থান তল্লাশি করে ডাকাতির সরঞ্জাম, লাঠি, ছুরি, কাটা রডসহ অন্যান্য উপকরণ জব্দ করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে শহরে কোনও ধরনের নিরাপত্তাহানি না ঘটে।”
গ্রেপ্তার সাতজনের নাম, বয়স ও পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | মন্তব্য/ভূমিকা |
|---|---|---|
| মো. সানি | ১৯ | ডাকাতির প্রস্তুতির মূল সন্দেহভাজন |
| আ. আহাদ | ১৯ | সক্রিয় সহযোগী |
| টুটুল মিয়া | ২৭ | অভিজ্ঞ সহযোগী |
| মো. সাইফুল ইসলাম | ২২ | সরঞ্জাম বহনকারী |
| রায়হান বান্টি | ৪৫ | সিনিয়র সদস্য, পরিকল্পনায় যুক্ত |
| অমিত দে চন্দ্র দে | ২০ | নতুন যোগদানকারী |
| গোপাল দাস | ২৩ | ঘনিষ্ঠ সহযোগী |
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে নিম্নোক্ত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে:
প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, গ্রেপ্তাররা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির পরিকল্পনা ও লক্ষ্যস্থল নির্ধারণ করছিল। পুলিশ আশা করছে, এই অভিযানের ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সন্ত্রাস ও ডাকাতির ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশের বিশেষ অভিযান এই এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব পুনঃপ্রমাণ করেছে। গ্রেপ্তাররা ডাকাতির প্রস্তুতিতে যুক্ত থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযানের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং জড়িত অন্য ব্যক্তিদের খোঁজ চালানো হবে। স্থানীয়দের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা, যাতে শহরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা যায়।
এই ধরনের উদ্যোগ নাগরিকের নিরাপত্তা, শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।