খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তাল, তখন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের গভীর উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তবে পরিবারের সেই আশঙ্কার বিপরীতে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—নিজের মধ্যে কোনো ভয় তিনি অনুভব করেন না। বরং চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি আশাবাদী ও দৃঢ় অবস্থানে আছেন।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন শফিকুল আলম। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার তাঁর ১৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও গুলিবর্ষণের ঘটনার কারণে তিনি মানসিকভাবে বেশ ভারাক্রান্ত ছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন,
“স্ত্রী, সন্তান এবং ভাই–বোন আমার নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নির্বাচনের আগে তারা আমাকে আরও সতর্ক থাকতে বলেছে। তারা ভীত। কিন্তু সত্যি বলতে আমি নই।”
তিনি আরও লেখেন, সাম্প্রতিক এক নৃশংস গুলিবর্ষণের ঘটনার পর থেকে ওসমান হাদি নামের এক তরুণ বারবার তাঁর ভাবনায় ফিরে আসছে, যিনি সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। শফিকুল আলম বলেন, দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে তিনি লক্ষ লক্ষ তরুণের চোখে একই প্রতিবাদী দৃঢ়তা দেখতে পান।
প্রেসসচিব তাঁর লেখায় বলেন,
“আমি বাংলাদেশের যেখানে যাই, সেখানে লাখ লাখ ‘হাদি’কে দেখি। হাসিনা আর আসাদুজ্জামান খান কামাল—বাংলার কসাইরা আর কতজনকে মারতে পারবে?”
তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনীতির হাল ধরেছে একটি নতুন প্রজন্ম, যারা একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে উৎখাত করলেও এখনো তাদের সংগ্রাম শেষ হয়নি। এই প্রজন্ম ভয়কে অস্বীকার করেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
শফিকুল আলম বলেন,
“যতক্ষণ কোটি কোটি হাদি তাদের অবস্থান ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাবে, ততক্ষণ ভয় পাওয়ার বা আশা হারানোর কোনো কারণ নেই।”
তিনি শহীদ আনাসের উদাহরণ টেনে বলেন, যিনি মৃত্যুর আগে মায়ের কাছে হৃদয়বিদারক একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই আত্মত্যাগ আজকের তরুণদের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। এই তরুণরা তাদের পরিবারকে অঙ্গীকার করেছে—দেশ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না।
প্রেসসচিব দৃঢ়ভাবে বলেন, আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। যদিও সামনে নানা ধাক্কা আসবে এবং শক্তিশালী দেশি-বিদেশি গোষ্ঠী সাময়িকভাবে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করবে, তবু এই তরুণরা ভয় পায় না।
তিনি লেখেন,
“ইঞ্জিন সাময়িকভাবে বিকল করার চেষ্টা হবে, কিন্তু তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেই।”
শফিকুল আলম তাঁর পোস্টে জুলাই ও আগস্টে নিহত একাধিক তরুণের নাম উল্লেখ করেন—
আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আনাস, আহনাফ, ফাইয়াজ, দীপ্ত দে, নাইমা ও রিয়া গোপ, পাশাপাশি দীর্ঘ আন্দোলনে নিহত আবরার ফাইয়াজ।
সবশেষে তিনি লেখেন,
“চারদিকে ছড়িয়ে আছে লাখ লাখ হাদি ও নাবিলা। তারা ভয় পায় না। আমিও না।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট—ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন হলেও, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও তরুণ সমাজের শক্তির ওপর ভর করে নিজের অবস্থানে অটল আছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব।