খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৮ দিনেই দেশে ২৯৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৫০.৬ শতাংশ, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৮ দিনে প্রবাসীরা ১৯৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতকে শক্তিশালী করছে। শুধুমাত্র চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯২১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ, অর্থবছরের হিসেবেও প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২২ শতাংশ।
রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রিজার্ভের বর্তমান পরিস্থিতি একনজরে:
| সময়কাল / সূচক | তথ্যের বিবরণ (মার্কিন ডলারে) | প্রবৃদ্ধির হার / অবস্থা |
| জানুয়ারি ২০২৬ (প্রথম ২৮ দিন) | ২৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার | ৫০.৬% (গত বছরের তুলনায়) |
| ডিসেম্বর ২০২৫ (পূর্ণ মাস) | ৩২২ কোটি ডলার | সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ |
| ২০২৫-২৬ অর্থবছর (জুলাই-জানুয়ারি) | ১,৯২১ কোটি ডলার | ২২% বৃদ্ধি |
| ২০২৫ সালের মোট রেমিট্যান্স | ৩,২৮২ কোটি ডলার | স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি |
| বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ | ৩২.২৬ বিলিয়ন ডলার | ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা |
| ডলারের বর্তমান বিনিময় হার | ১২২ – ১২৩ টাকা | বাজার স্থিতিশীল |
সাধারণত বাংলাদেশে দুই ঈদ বা বড় উৎসবের আগে রেমিট্যান্স আসার হার বাড়ে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ভিন্ন কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে দেশে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। অনেক প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থক প্রবাসীরা নির্বাচনের খরচ মেটানোর জন্য বড় অংকের অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো—যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেশি, সেখান থেকেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আসছে। মূলত প্রবাসীদের সংগৃহীত তহবিল রেমিট্যান্সের নামেই বৈধ চ্যানেলে দেশে প্রবেশ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের নিট রিজার্ভ ছিল প্রায় ২৫.৫৮ বিলিয়ন ডলার। ডলার সংকটের কারণে তখন এক পর্যায়ে প্রতি মার্কিন ডলারের দাম ব্যাংক খাতে ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। তবে রেমিট্যান্সের গতি ভালো থাকায় এখন ডলারের বাজার বেশ স্থিতিশীল। বর্তমানে ডলারের দাম ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতকে পুনরায় শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যার ফলে বর্তমান রিজার্ভ বেড়ে ৩২.২৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
২০২১ সালে বাংলাদেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। পরবর্তী কয়েক বছর সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের বর্তমান রেমিট্যান্স প্রবাহ সেই সোনালি দিনগুলোর পুনরাবৃত্তির আশা জাগাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচনের আগপর্যন্ত বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের রিজার্ভ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের কোনো সংকট থাকবে না।