শুরু থেকেই ম্যাচটি সান্তোসের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। লুয়ান পেরেসের একটি ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে ফ্লুমিনেন্স। ইগর রাবেলোর সম্পৃক্ততায় তৈরি হওয়া সেই আক্রমণে কাস্তিয়ো নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান। গোলটি হজম করার পর সান্তোসকে ম্যাচে ফেরার জন্য নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয়।
গোলের ঘটনায় গোলরক্ষক দিওগেনেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। সাভারিনোর জোরালো শট ঠেকানোর পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে হাল্কের একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টাও আটকে দেন এই গোলরক্ষক। তাঁর এসব প্রচেষ্টা সান্তোসকে ম্যাচে টিকে থাকতে সহায়তা করে।
রক্ষণভাগে রদিনি ছিলেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়। আক্রমণে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি গাবিগোলের সমতাসূচক গোলেও তাঁর অবদান ছিল। প্রথমার্ধে কিছুটা অগোছালো দেখালেও ধীরে ধীরে নিজেদের সামলে নেন লুকাস ভেরিসিমো। তবে ম্যাচের শেষদিকে বাঁ পায়ের ঊরুতে চোট পাওয়ায় তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন জোয়াও আলেনকার। বদলি হিসেবে নেমে তিনি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র
প্রথমার্ধের ভুল শুধরে বিরতির পর সান্তোসকে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায়। কোচ কুকা খেলোয়াড়দের অবস্থান ও আক্রমণের ধরনে পরিবর্তন আনেন। মাঝমাঠে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে দলটি। এতে ফ্লুমিনেন্সের রক্ষণভাগের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
সান্তোসের সেই প্রচেষ্টার ফল আসে গাবিগোলের গোলে। রদিনির তৈরি করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ম্যাচে সমতা ফেরান। গোলটি সান্তোসের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং ম্যাচের গতি আরও বাড়ে।
এরপর জয়সূচক গোলের সুযোগ তৈরি করেন গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পো। তাঁর দেওয়া ক্রস থেকে ফিলিপে কুতিনহো বল জালে পাঠিয়ে সান্তোসকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে বোন্তেম্পোর কার্যকর পারফরম্যান্স এবং কুতিনহোর নিখুঁত ফিনিশিং ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
নেইমারের প্রত্যাবর্তনও ম্যাচটির অন্যতম আলোচিত দিক ছিল। তিনি গোল না পেলেও তাঁর উপস্থিতি সান্তোসের আক্রমণে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় করে আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়, যা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত সান্তোসকে জয় এনে দেয়।
ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া
এদিন বদলি হিসেবে মাঠে নেমে রোলহাইসার বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণে অংশ নেন। কিন্তু ফ্লুমিনেন্সের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফাবিও একাধিকবার তাঁর প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। ফলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও সান্তোস আর গোল করতে পারেনি।
এভারটনও গাবিগোলকে একটি ভালো পাস দিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত ড্রিবলিংয়ের কারণে সেই আক্রমণ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। অন্যদিকে, অলিভা মাঠে নেমে মাঝমাঠে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনলেও গাবিগোলের বাড়ানো বল কাজে লাগিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন। গুস্তাভো এনরিকে মাঝমাঠে রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দলকে ভারসাম্য ধরে রাখতে সাহায্য করেন। বারিয়াল আক্রমণে বেশি সক্রিয় ছিলেন, আর বাঁ প্রান্ত দিয়ে রনি দলের গতিশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ম্যাচের শেষদিকে রাফায়েল গোনজাগাকেও মাঠে নামানো হয়।
সব মিলিয়ে, সান্তোসের এই জয় ছিল ভুল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি কার্যকর উদাহরণ। প্রথমার্ধে রক্ষণভাগের দুর্বলতা দলকে পিছিয়ে দিলেও বিরতির পর আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের উন্নত সমন্বয় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গাবিগোল ও কুতিনহোর গোল জয় নিশ্চিত করে, আর নেইমারের প্রত্যাবর্তন দলটির পারফরম্যান্সে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে।
সুযোগগুলো আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে সান্তোসের জয়ের ব্যবধান বড় হতে পারত। তবু পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরে আসা এবং শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখার সক্ষমতা দলটির জন্য ইতিবাচক দিক। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রক্ষণভাগের ভুল কমিয়ে আক্রমণের কার্যকারিতা বাড়াতে পারলে সান্তোস আরও ধারাবাহিক ফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারবে।


