খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
নেত্রকোনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযানে যাওয়ার সময় পুলিশ দেখে পালাতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে সাব্বির মিয়া (২১) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনা সদরের হরিখালী খাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাব্বির নেত্রকোনা শহরের মেছুয়াবাজার এলাকার পান-সিগারেট ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
জেলা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল আমতলা এলাকার ময়মনসিংহের রুহী গ্রামে একটি নির্ধারিত মাদকবিরোধী অভিযানে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সদর এলাকার হরিখালী খালের পাড়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কতিপয় যুবক আতঙ্কিত হয়ে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তড়িঘড়ি করে পালাতে গিয়ে কয়েকজন যুবক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালের পানিতে পড়ে যায়।
বিষয়টি দেখে স্থানীয় গ্রামবাসী দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং উদ্ধারকৃতদের খালের পাড় সংলগ্ন সড়কে নিয়ে আসেন। সেখানে এক যুবককে আশঙ্কাজনক ও মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ডিবি পুলিশের দলটি তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, “ডিবি পুলিশের দলটি আমতলা এলাকার একটি মাদক অভিযানে যাওয়ার সময় হরিখালী খালের পাড়ে পুলিশ দেখে কয়েকজন যুবক ভয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে খালে পড়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে এবং মুমূর্ষু অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ দ্রুত আধুনিক সদর হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।”
হাসপাতালে নিহতের লাশ উদ্ধারের পর সাব্বিরের পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে চরম শোক ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের বোন পূর্ণিমা আক্তার এবং তাঁর বন্ধু জিহাদ মিয়া এ ঘটনাকে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। তাঁরা একে রহস্যজনক মৃত্যু উল্লেখ করে সঠিক তদন্তের দাবি তুলেছেন।
স্বজনদের বক্তব্য: “সাব্বির বাইরে সাধারণ খালের পানিতে গোসল বা সাঁতার কাটতে যাওয়ার মতো ছেলে নয়। খালের পানিতে আকস্মিক পড়ে গিয়ে মৃত্যু হলে তাঁর পকেটে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি অক্ষত অবস্থায় কেন থাকবে? এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”
স্বজনরা হাসপাতালে পুলিশ কর্তৃক যুবককে রেখে আসার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাজহারুল আমিন জানান, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৪:৩০ মিনিটের দিকে ওই যুবককে ডিবি পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসে।
হাসপাতালে আনার পরপরই কর্তব্যরত চিকিৎসক নিহতের ইসিজি (ECG) পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পরীক্ষা শেষে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হাসপাতালে আনার সময় যুবকের গায়ের পোশাক ও শরীর ভেজা ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির সার্বিক আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য