আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর সামনে ঢাকা-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে নাওডোবা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। এ সময় নাওডোবা তস্তারকান্দি এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
অবরোধের কারণে সকাল ছয়টা থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে আটটার পর কিছু যানবাহন সেতু পার হতে শুরু করলেও এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জাজিরা পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘লকডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ঢাকা-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন। তাঁরা নাওডোবা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। সকাল সাতটার দিকে তস্তারকান্দি এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় দুটি যাত্রীবাহী বাসও ভাঙচুর করা হয়। আন্দোলনকারীরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে মিছিল করেন এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।
অবরোধের কারণে জমাদ্দার মোড় এলাকায় অন্তত আধা কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার পুলিশ ও স্থানীয়রা যানবাহনের নিরাপত্তা দেন। অন্যদিকে শরীয়তপুরের সব সড়কে সকাল থেকে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি।
শরীয়তপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, গতকাল ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকায় শরীয়তপুরের দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আজ পদ্মা সেতু এলাকায় অবরোধ চলছে। এতে আতঙ্কে বাস মালিক ও শ্রমিকরা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হবে।
জাজিরা পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল থেকে পদ্মা সেতুর এক কিলোমিটার পশ্চিমে সড়কে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা একটি ট্রাকে আগুন দেয়। পরে পুলিশ সেতুর দক্ষিণ পাশে আটকে পড়া যানবাহন পারাপারে সহায়তা করে। সকাল সাড়ে আটটার পর শরীয়তপুরের কিছু যানবাহন সেতু পার হতে শুরু করলেও এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন



