ইসলামিক ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজানের আগমনী বার্তায় মুখরিত সারা দেশ। সিয়াম সাধনার এই মাসটি কবে থেকে শুরু হবে, তা নির্ধারণে আগামী কাল বুধবার সন্ধ্যায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক সভা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই সভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, কেননা এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে প্রথম তারাবি ও প্রথম সেহরির সময়সূচি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে।
চাঁদ দেখা কমিটির সভা ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া
রাজধানীর বায়তুল মোকাররমস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় (১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি আগামীকাল আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়, তবে বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশে রোজা শুরু হবে।
সম্ভাব্য তারিখ ও ধর্মীয় বিধিবিধানের সমীকরণ
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রমজান মাস শুরুর দুটি সম্ভাব্য চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| সম্ভাব্য তারিখ | পরিস্থিতি | করণীয় |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) | বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে | বুধবার রাতে প্রথম তারাবি ও শেষ রাতে সেহরি খেয়ে বৃহস্পতিবার প্রথম রোজা। |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) | বুধবার চাঁদ দেখা না গেলে | বৃহস্পতিবার শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। শুক্রবার হবে প্রথম রোজা। |
তথ্য প্রদানের বিশেষ জরুরি নম্বর
ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে যে, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেলে তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এজন্য তারা সুনির্দিষ্ট কিছু টেলিফোন নম্বর বরাদ্দ করেছে:
-
সরাসরি ফোন: ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭
-
অন্যথায় সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (DC) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (UNO) অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রমজানের প্রস্তুতি ও তাৎপর্য
রমজান মাস কেবল উপবাসের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও ধৈর্যের মাস। চাঁদ দেখার ঘোষণা আসার সাথে সাথেই শুরু হয় তারাবির নামাজের প্রস্তুতি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিটি মসজিদে খতিব ও ইমামদের যথাযথ গাইডলাইন অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সাহরি ও ইফতারের সময় নিয়ে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না ঘটে, সেজন্য ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত অনুমোদিত সময়সূচি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য রমজানের এই ক্ষণগণনা অত্যন্ত আবেগের। বুধবার বিকেলের সূর্য ডোবার পরপরই সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি থাকবে পশ্চিম আকাশে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণা আসার পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে মুমিনদের ইবাদতের মহোৎসব।



