খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত মতিউর রহমান (৬৯) স্থানীয়ভাবে শান্ত স্বভাবের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের শরিফ সুঘাট গ্রামে। জানা যায়, গত ২২ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মতিউর রহমান তার পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য একই গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে অর্থ লেনদেন নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র বাগবিতণ্ডায় রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সহিংসতায় গড়ায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল লোক মতিউর রহমানের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার হাত-পা ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ২৮ মার্চ বিকেলে মতিউর রহমান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ মার্চ শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন—খোদা বক্স (৫৬), রুবেল আহমেদ (২৭), শাহাদৎ হোসেন (২৮), জাফর আলী (২৫), মিল্লাহ হোসেন (২২), জাহিদ হাসান (২৯), বেলাল হোসেন (৫৫), স্বপন মিয়া (১৯), নুর আলম (৪০), মোস্তফা কামাল (৩২), জাহেদা বেগম (৩৫) ও বেলি বেগম (২৭)। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
নিচে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | মতিউর রহমান (৬৯) |
| ঘটনার স্থান | শরিফ সুঘাট গ্রাম, শেরপুর, বগুড়া |
| ঘটনার তারিখ | ২২ মার্চ (সকাল) |
| মৃত্যুর তারিখ | ২৮ মার্চ (বিকেল) |
| অভিযোগের কারণ | পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ |
| মামলার বাদী | শফিকুল ইসলাম (নিহতের ছেলে) |
| আসামির সংখ্যা | ১২ জন |
| বর্তমান অবস্থা | আসামিরা পলাতক |
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মঈনুদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসামিরা বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সামান্য আর্থিক বিরোধ থেকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড গ্রামীণ সমাজে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।