পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়া, বরখাস্ত হলেন পাইলট
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে অমৃতসরগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ সাময়িকভাবে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের ঘটনায় পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর ফ্লাইট ক্রু ও সংশ্লিষ্ট এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার (এটিসি)-এর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) জানায়, গত সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটের দিকে এয়ারবাস এ৩২১ মডেলের উড়োজাহাজটি দিল্লি থেকে অমৃতসরের উদ্দেশে রওনা দেয়। অমৃতসর বিমানবন্দরে রানওয়ে পরিদর্শন চলার কারণে অবতরণে বিলম্ব হয় এবং বিমানটিকে আকাশে অপেক্ষা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে একই দিন বিকেলে অমৃতসরে অবতরণের পর ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটে পাখির আঘাত (বার্ড হিট) ঘটায় বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট অপারেশন ব্যাহত হয়। এর ফলে পরবর্তী পাঁচটি ফ্লাইটকে আকাশে অপেক্ষা করতে হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটটি সেই অপেক্ষমাণ উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে চতুর্থ ছিল।
ডিজিসিএর তথ্য অনুযায়ী, রাডার নিয়ন্ত্রণে অবতরণের প্রক্রিয়া শুরু করার সময় ভুলভাবে নির্দেশনা অনুসরণ করায় উড়োজাহাজটি অল্প সময়ের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর পাকিস্তানের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঘটনার পর বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে ফিরে যায় এবং পরবর্তীতে আবার অমৃতসরের উদ্দেশে যাত্রা করে গন্তব্যে অবতরণ সম্পন্ন করে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টায় কোনো জটিলতা ছাড়াই অবতরণ সম্পন্ন হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, অমৃতসর বিমানবন্দরে ‘গো-অ্যারাউন্ড’ বা পুনরায় অবতরণ কৌশল প্রয়োগের সময় ফ্লাইটটি অনিচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, উড়োজাহাজটি প্রায় তিন মাইল পাকিস্তানের আকাশসীমার ভেতরে প্রবেশ করেছিল। যদিও ঘটনাটি অল্প সময়ের জন্য ঘটেছে, তবে আন্তর্জাতিক আকাশসীমা লঙ্ঘনের কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সময় অমৃতসর বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোচ সার্ভেইল্যান্স সেবা কার্যকর ছিল না বলেও জানা গেছে, যা অবতরণ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করে। জ্বালানি পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত বিমানটি দিল্লিতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে রাডার সমন্বয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ত্রুটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আরও কড়াকড়ি ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।