পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে কিরাণা হিলসে আঘাত হানা ভারতীয় ড্রোনটি মূলত কোনো সুনির্দিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়নি বলে দাবি করেছেন ভারতের সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান। ঘটনার প্রায় এক বছর পর ভারতের পক্ষ থেকে সেই স্পর্শকাতর সামরিক ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, ওই ঘটনাটি সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা ছিল।
জেনারেল চৌহানের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ব্যবহৃত ইসরায়েলি প্রযুক্তিতে তৈরি ‘হারোপ’ ড্রোনটি সারগোদা ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার অবস্থান শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত ছিল। আকাশসীমায় এই ধরনের ড্রোনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সাধারণত দুই ঘণ্টার মতো সময় এগুলো আকাশে উড়ে লক্ষ্যবস্তু অনুসন্ধান করতে পারে। তবে সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ড্রোনটি নির্দিষ্ট কোনো টার্গেট খুঁজে পায়নি। একপর্যায়ে ড্রোনের জ্বালানি পুরোপুরি ফুরিয়ে এলে সেটি কিরাণা হিলস অঞ্চলের একটি পাহাড়ের ঢালে আছড়ে পড়ে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই শ্রেণির ড্রোনগুলো স্বাধীনভাবে ওড়ার পর টার্গেট না পেলে শেষ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কোনো নির্জন স্থানে পতিত হতে হয়। ঠিক এমন একটি কারিগরি পরিস্থিতির ফলেই ড্রোনটি পাকিস্তানের ওই বিশেষ ভৌগোলিক সীমান্তে গিয়ে পড়েছিল।
এর পাশাপাশি ভারতের সামরিক প্রস্তুতির নানা কৌশলগত তথ্য প্রকাশ করে সাবেক এই সেনাপ্রধান আরও জানান যে, অপারেশন চলাকালে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্কার্দুতেও বিমান হামলার পূর্ণ সবুজ সংকেত দিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী। তৎকালীন যুদ্ধ পরিস্থিতি ও পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করে জেনারেল চৌহান বলেন, বিমানবাহিনী প্রধান তাঁর কাছে সারগোদায় সরাসরি আঘাত হানবেন কি না তা জানতে চেয়েছিলেন। তখন তিনি অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি আরও দুটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে বলেন।
বিমানবাহিনী প্রধানের নির্বাচিত সেই দুটি নতুন লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল স্কার্দু। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ স্কার্দুতে অভিযানের অনুমোদনও দিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আকাশসীমা ও ওই অঞ্চলের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মিশনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে চূড়ান্ত সময়ে আকাশপথের পরিকল্পনা বদলে ফেলা হয় এবং স্কার্দুর বদলে ভোলারিতে সফল বিমান হামলা চালানো হয়। ১ বছরের পুরোনো এই ড্রোন দুর্ঘটনা ও সামরিক সিদ্ধান্ত রূপায়ণের ঘটনাটি উপমহাদেশের দুই পরাশক্তির মধ্যে আবারও নীতিগত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


