আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৩ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা নেওয়ার আগ্রহ কমছে। বরং অনেকেই সেখানে পড়াশোনা করতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসে ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক নীতি পরিবর্তন করেছেন এবং আমেরিকায় বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ফলস্বরূপ, হাতে বিকল্প থাকায় অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকাকে এড়াচ্ছেন। এতে মূল ক্ষতি হচ্ছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছর আগের তুলনায় বিদেশি পড়ুয়া কম ভর্তি হয়েছে।
বিদেশি পড়ুয়াদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রচুর আয় করে। বিদেশি মুদ্রা এবং ডলারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থনৈতিক লাভ হয়। বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। বিশেষ করে, বিভিন্ন গবেষণায় মার্কিন বিনিয়োগ বিদেশিদের আরও আকৃষ্ট করে। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। বিদেশি পড়ুয়ার সংখ্যা হু হু করে কমছে নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। শিকাগোর ডিপল ইউনিভার্সিটি ইতিমধ্যে খরচ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এ বছর সেখানে আগের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম বিদেশি পড়ুয়া ভর্তি হয়েছে। গত বছরে ডিপলে মোট ২১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন, যার মধ্যে ২৫০০ বিদেশি ছিলেন।
শিকাগোর ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার বিদেশি পড়ুয়ার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৭৫৫ জন কমেছে। ডিপল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যানুয়েল জানিয়েছেন, বিদেশিদের ভিসা পেতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, এবং নতুন ভিসার আবেদন মঞ্জুর হতে বেশি সময় লাগছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশি পড়ুয়াদের সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সরকারের কাছে সরবরাহ করতে হবে, যাতে মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের আমেরিকা সম্পর্কিত মনোভাব যাচাই করতে পারেন। এই নিয়ম শুনেও অনেকে আমেরিকা যাওয়ার ইচ্ছা বাতিল করেছেন।
গত মে মাসে ট্রাম্পের পদক্ষেপে পড়েছিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। বলা হয়েছিল, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিদেশি পড়ুয়া ভর্তি নেওয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ এবং জাতিগত হয়রানি মোকাবিলায় তারা ব্যর্থ। হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মন পরিবর্তনের একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে তারা উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকার বিকল্প খুঁজছেন।
ট্রাম্পের নতুন নীতির প্রভাবে ডিপলসহ অন্তত ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বাজেটে কাটছাঁট করেছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে গত মার্চে ২ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই হয়েছে, গবেষণার কাজে বরাদ্দ থেকে ৭.১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২৫টি পদ বাতিল করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬৩০ জন কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল কারণ হিসেবে অর্থের অভাব এবং বিদেশি পড়ুয়াদের সংখ্যা হ্রাসকে দেখা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে ভারতের এক ছাত্রী জানিয়েছেন, তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু ভিসার জটিলতার কারণে সেখানে পড়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। অন্যত্র পড়ার পরিকল্পনা করছেন।
চীনের এক পড়ুয়া ২০২৪ সালে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছিলেন। পরে গবেষণার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি আমেরিকার পরিবর্তে ব্রিটেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি কিছু অধ্যাপকও ছাত্রছাত্রীদের আমেরিকা এড়াতে পরামর্শ দিচ্ছেন।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে ট্রাম্প অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি নিয়েছেন। তার বক্তব্য, মার্কিন চাকরি এবং শিক্ষায় আমেরিকানদের প্রাধান্য দিতে হবে। বাইরে থেকে যারা সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের জন্য মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় সমস্যা হচ্ছে। তবে এই নীতির কারণে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যার মুখে পড়ছে।
খবরওয়ালা/শরিফ