খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় পৃথক অভিযানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার পৌরসভা ও কালমেঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পাথরঘাটা থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বরগুনা জেলা কৃষক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ (৪৫), কালমেঘা ইউনিয়ন তরুণ প্রজন্ম লীগের সাবেক সভাপতি এবং পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক রাসেল মিয়া (৩২), পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর জমাদ্দার (৫০), পাথরঘাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন আকন (৩৩) এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী সবুজ আকন (২০)।
পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক সময়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
থানা সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাথরঘাটা ও বরগুনার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় তাদের আসামি হিসেবে দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
পুলিশ বলছে, চলমান মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে আদালত-সংশ্লিষ্ট বা তদন্তাধীন মামলায় অভিযোগ রয়েছে, তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা মানেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক আসামিই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের শুনানির ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন জেলায় বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অপরাধ দমন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনাই এসব অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য