খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ১:৩৯ পিএম
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় ইসরাত জাহান (২৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২০২৬ সালের ১৭ জুন, বুধবার দুপুরে উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতের নিজ শয়নকক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরের দিকে কালিকাবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া এলাকার নিজ বসতবাড়ির একটি কক্ষে ইসরাত জাহানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁর স্বজনরা। ঘরের ভেতর তাঁর এই অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
সংবাদ পাওয়ার পর পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহটি সিলিং ফ্যান বা আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামিয়ে আনেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেন।
এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, ইসরাত জাহানের এই মৃত্যুর পেছনে রহস্যজনক কারণ রয়েছে। এটি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা বা সাধারণ আত্মহত্যা নাও হতে পারে বলে তাঁরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পেছনে কোনো প্ররোচনা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটন করতে প্রশাসনের কাছে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ গণমাধ্যমকে জানান, গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন পুলিশের নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদি প্রতিবেদনে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা অপরাধের আলামত পাওয়া যায়, তবে সেই অনুযায়ী নিয়মিত মামলা রুজু করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের সার্বিক তথ্য ও মামলার বর্তমান অবস্থা নিচে সারণীবদ্ধভাবে তুলে ধরা হলো:
| পর্যালোচিত বিষয় | সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| নিহত গৃহবধূর নাম | ইসরাত জাহান |
| বয়স | ২৬ বছর |
| ঘটনার স্থান | কালিকাবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া, ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়ন, পার্বতীপুর, দিনাজপুর |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৭ জুন ২০২৬ (বুধবার), দুপুর বেলা |
| মরদেহের অবস্থা | নিজ বাড়ির একটি কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার |
| পরিবারের অবস্থান | মৃত্যুর পেছনে রহস্য থাকার অভিযোগ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি |
| বর্তমান আইনি স্থিতি | পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের |
| ময়নাতদন্তের স্থান | দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ |
| তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ | পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা: আব্দুল ওয়াদুদ) |
পুলিশের তদন্ত দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে এবং নিহতের পরিপার্শ্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য