খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের চালানো এক অতর্কিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা ও একজন স্থানীয় দোভাষী নিহত হয়েছেন। একই হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর আরও তিন সদস্য আহত হন। পাল্টা অভিযানে হামলায় অংশ নেওয়া এক আইএস সদস্যকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাটি ঘটে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমিরা সংলগ্ন এক অঞ্চলে, যা বর্তমানে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে আইএস-ই এই হামলার পেছনে দায়ী। হামলার ধরন ও ব্যবহৃত কৌশল আইএসের পূর্ববর্তী আক্রমণগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “বিশ্বের যেখানেই আমেরিকানদের ওপর হামলা চালানো হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র অপরাধীদের খুঁজে বের করবে এবং নির্মমভাবে প্রতিশোধ নেবে।” তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও জোরদার হতে পারে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, মার্কিন সেনারা ওই এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী টহল ও স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়মূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। এ সময় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। আহত সেনাদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে গঠিত আন্তর্জাতিক জোটে পুনরায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে সিরিয়া। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো আইএসের অবশিষ্ট ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিস্তার ঠেকানো। যদিও আইএসের তথাকথিত খেলাফত বহু আগেই ভেঙে পড়েছে, তবু সিরিয়া ও ইরাকের কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারা এখনও বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। গত মাসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন এবং হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এর ঠিক পরপরই এই হামলার ঘটনা দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা প্রমাণ করে যে আইএস এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি এবং সুযোগ পেলে তারা আন্তর্জাতিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
| পরিচয় | অবস্থা |
|---|---|
| মার্কিন সেনা | নিহত ২ |
| স্থানীয় দোভাষী | নিহত ১ |
| মার্কিন সেনা | আহত ৩ |
| আইএস সদস্য | নিহত ১ |
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এখনও শেষ হয়নি এবং এর প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তায় গভীরভাবে পড়ছে।