সারাদেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সময় অর্থাৎ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পিক আওয়ারে দেশজুড়ে ৫২৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। ওই নির্দিষ্ট সময়ে সারাদেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২১১ মেগাওয়াট। সার্বিক চাহিদার সিংহভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলেও চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের সামঞ্জস্য না থাকায় কয়েকটি অঞ্চলে গ্রাহকদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ও লোডশেডিং সংক্রান্ত একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের চিত্র পুরোপুরি এক ছিল না। ভৌগোলিক অবস্থান ও আঞ্চলিক চাহিদার ভিত্তিতে লোডশেডিংয়ের মাপে বেশ বড় তারতম্য দেখা গেছে।
পাওয়ার গ্রিডের অঞ্চলভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুতের সংকট ছিল সবচেয়ে বেশি। সেখানে ১ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সর্বোচ্চ ২৫৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড করা হয় ঢাকা অঞ্চলে। তবে ঢাকা জোনে মোট ৬ হাজার ১৮৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৫৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়, যা মূল চাহিদার তুলনায় বেশ কম।
কুমিল্লা অঞ্চলে ১ হাজার ৪৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৫০ মেগাওয়াট এবং খুলনা অঞ্চলে ১ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। একইভাবে রাজশাহী অঞ্চলে ১ হাজার ৫৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০ মেগাওয়াট ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।
অবশ্য দেশের চারটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলে বিদ্যুতের সরবরাহ ছিল একেবারেই স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন। চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর—এই চার অঞ্চলে পিক আওয়ারের পুরো চাহিদাই মেটানো সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম জোনে ১ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট, সিলেট জোনে ৬৬৮ মেগাওয়াট, বরিশাল জোনে ৪৮১ মেগাওয়াট এবং রংপুর জোনে ১ হাজার ৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পুরোটাই সরবরাহ করা হয়। ফলে এই অঞ্চলগুলোর কোথাও কোনো লোডশেডিং হয়নি।
সাধারণত গরমের মৌসুমে কিংবা সেচ চলাকালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সংকটের কারণে এবং জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতায় মাঝে মাঝে এ ধরনের আঞ্চলিক বৈষম্য বা ঘাটতির সৃষ্টি হয়। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে উৎপাদনে গতি ফিরিয়ে ঘাটতি শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে বিদ্যুৎ খাত সূত্রে জানা গেছে।

