খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৫ এএম
রংপুরের পীরগাছায় ১০ বছর বয়সী এক তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাওটানা হাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের প্রতিপাল গ্রামের শমেস উদ্দিনের ছেলে। তিনি সম্পর্কে ভুক্তভোগী ওই শিশুর প্রতিবেশী দাদা হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটিকে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান শহীদুল ইসলাম। বাড়িতে তখন কেউ না থাকার সুযোগে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির আত্মচিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। লোকজন এগিয়ে আসতে দেখে অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত ও অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি দ্রুত পীরগাছা থানা-পুলিশকে অবহিত করে। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে। পীরগাছা থানা-পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলেই উপজেলার পাওটানা হাট এলাকায় ঘেরাও করে পলাতক শহীদুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এই জঘন্য ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে পীরগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অপরাধের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে আসামিকে আজ দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা এবং আইনি সহায়তার বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য