পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত দুজনই আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে বিরোধের বিস্তারিত কারণ এবং হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় আব্দুস সালাম হাজী হাটের ভেতরে অবস্থিত নিজের অফিসকক্ষে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে বসে ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আকস্মিক এই হামলায় সালাম হাজী ও রিপন হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। হামলাকারীরা গুলি চালানোর পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুলির শব্দে হাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তাঁদের মৃত্যুর খবরে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন মারা গেছেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। কারা এই হামলা চালিয়েছে, কী উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে এবং ইজারা নিয়ে বিরোধের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় হাটবাজারের ইজারা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে পুষ্পপাড়া হাটের এই ঘটনায় বিরোধের প্রকৃতি, হামলার পরিকল্পনা কিংবা হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তদন্তের ফলাফলের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও গ্রেপ্তার বা আটকের তথ্য জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ বিরাজ করছে।


