খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এলাকার পূজা আয়োজনগুলোতে এই বছর সরকারি বরাদ্দকৃত চালের বদলে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। তবে সেই অর্থের পরিমাণও ছিল চালের বাজারদরের মাত্র অর্ধেক। স্থানীয় পূজা উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেছেন যে, অবশিষ্ট টাকা একটি প্রভাবশালী চক্র ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছে।
জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৫০০ কিলোগ্রাম করে চাল বরাদ্দ করা হয়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু প্রতিটি পূজামণ্ডপকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। ফলস্বরূপ, ৪২টি পূজামণ্ডপ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, প্রশাসন বরাদ্দ দেওয়ার পরেও খাদ্য কর্মকর্তারা কালোবাজারিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে চাল বিতরণে বিলম্ব ঘটান। এরপর তড়িঘড়ি করে মণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সম্পাদকদের খাদ্যগুদামে ডেকে এনে ফাঁকা রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করিয়ে প্রতি ডিও-র বিপরীতে ১৫ হাজার টাকা ধরিয়ে দেন। এই অপকর্মে পূজা উদযাপন কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য খাদ্য কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেছেন বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ বর্মনপাড়া পূজা মণ্ডপের সভাপতি শীতল চন্দ্র বর্মণ বলেন, “গুদামে নিয়ে কর্মকর্তা জানালেন, স্বাক্ষর করে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যান। বরাদ্দের চাল দেখতেও দেওয়া হয়নি।”
আনন্দময়ী যুব সংঘের সভাপতি উষা রঞ্জন সরকার জানান, “পূজার ব্যস্ততার কারণে চাল বুঝে নেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের টাকা গ্রহণ করতে হয়েছে।”
ফুটন্ত কলি যুব সংঘের সভাপতি লিটন রবি দাসের অভিযোগ, “পাশের জেলায় একই পরিমাণ চাল ২২-২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও আমরা ১৫ হাজার টাকাই নিতে বাধ্য হয়েছি।”
প্রশাসনের ভাষ্য কটিয়াদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রত্যেক পূজামণ্ডপে খাদ্যের জন্য ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। সভাপতি ও সম্পাদকেরা ডিও সংগ্রহ করার পর বাকি দায়িত্ব খাদ্য বিভাগের।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কনক কান্তি দেবনাথ বলেন, “চালের বদলে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, “চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার কোনো বিধান নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই বছর কিশোরগঞ্জ জেলার মোট ৩৯৪টি পূজামণ্ডপের জন্য সরকার ১৯৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে কটিয়াদী উপজেলার ৪২টি পূজামণ্ডপে সাড়ে ২১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল। ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতা বজায় রেখে সিন্ডিকেটের এই অবৈধ হস্তক্ষেপ রুখতে এলাকার মানুষ প্রশাসনের আরও কঠোর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন