খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন না সাংবাদিকেরা। সম্প্রতি সাংবাদিকদের উদ্দেশে পাঠানো এক মেমোতে এ নির্দেশনা দিয়েছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল। ওই মেমোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে সাংবাদিকদের পেন্টাগনের সংবাদ কভার করার অধিকার বাতিল করা হবে।
এ পদক্ষেপকে ট্রাম্প প্রশাসনের সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির তথ্যমতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর প্রেস পাস পেতে সাংবাদিকদের একটি ১০ পৃষ্ঠার ফর্মে স্বাক্ষর করতে হবে। সেখানে শর্ত থাকবে—দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না, এমনকি তা আনক্লাসিফায়েড হলেও।
পেন্টাগনের যুক্তি, জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গোপন তথ্য এবং নিয়ন্ত্রিত অগোপন তথ্য সুরক্ষার স্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো এ নিয়মের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এ নিয়ম বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের বিধিনিষেধ মানুষের কাছে স্বচ্ছ তথ্য পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসও এ নিয়মের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। পত্রিকাটির ভাষ্য—গণতন্ত্রে স্বাধীন সাংবাদিকতার যে সংবিধানিক অধিকার রয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ করে দিচ্ছে এ ধরনের বিধিনিষেধ।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও নতুন এ সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সিনিয়র সদস্য, রোড আইল্যান্ডের সিনেটর জ্যাক রিড বলেছেন, ‘এই নিয়ম স্বাধীন মত প্রকাশ এবং সাংবাদিকতার জন্য একেবারেই অনুচিত আঘাত।’
রিড আরও বলেন, ‘মূলত প্রশাসন নিজেদের ভুল-ত্রুটি ঢেকে রাখতে সাংবাদিকতার ওপর এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। সাংবাদিকতাকে দমন করে সত্য লুকিয়ে রাখতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার সাংবাদিকদের শুধু ক্ষমতাসীন দলের বা পেন্টাগনের নোট রক্ষক হয়ে থাকা উচিত নয়।’
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ লিখেছেন, ‘পেন্টাগন সাংবাদিকদের দ্বারা পরিচালিত হয় না। এটি পরিচালনা করে দেশের জনগণ।’
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রেস ও প্রশাসনের মধ্যে একাধিক বিরোধ সামনে এসেছে। গত সপ্তাহেই রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির এবিসি নেটওয়ার্ককে জিমি কিমেলের লেইটা নাইট শো ‘জিমি কিমেল লাইভ’ বন্ধ করতে বাধ্য হতে দেখা যায়। অনেকের মতে, প্রশাসনের চাপেই এবিসিকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিলে হোয়াইট হাউসে বার্তা সংস্থা এপির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। গালফ অব মেক্সিকোকে ট্রাম্পের নির্দেশনায় ‘গালফ অব আমেরিকা’ হিসেবে উল্লেখ না করায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। তবে আদালতের হস্তক্ষেপে পরে এপির প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়।
খবরওয়ালা/শরিফ