খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের কোথাও বাস ভাড়া না বাড়ানোর কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভাড়া পুনর্নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত দেশের প্রতিটি রুটে বিদ্যমান ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করতে হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিবহন খাত একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। তা সত্ত্বেও, সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। সকল পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি বিদ্যমান ভাড়ার তালিকা অনুসরণ করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে, জ্বালানির দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত ও যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পরিবহন নেতৃবৃন্দ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও গত দেড় মাস ধরে জ্বালানি তেল নিয়ে তীব্র সংকট দেখা দেয়। এমতাবস্থায় বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্যতালিকা ঘোষণা করে।
গত ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| জ্বালানির ধরন | পূর্বের মূল্য (প্রতি লিটার) | বর্তমান মূল্য (প্রতি লিটার) | মূল্য বৃদ্ধির পরিমাণ | শতাংশ হার (প্রায়) |
| ডিজেল | ১০০ টাকা | ১১৫ টাকা | ১৫ টাকা | ১৫% |
| অকটেন | ১২০ টাকা | ১৪০ টাকা | ২০ টাকা | ১৬.৬৭% |
| পেট্রোল | ১১৬ টাকা | ১৩৫ টাকা | ১৯ টাকা | ১৬.৩৮% |
| কেরোসিন | ১১২ টাকা | ১৩০ টাকা | ১৮ টাকা | ১৬.০৭% |
পরিবহন মালিকদের মতে, ডিজেল ও পেট্রোলের দাম এক লাফে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। টায়ার, লুব্রিকেন্ট এবং খুচরা যন্ত্রাংশের ক্রমবর্ধমান দামের সাথে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি খাতটিকে চাপের মুখে ফেলেছে। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি আশঙ্কা করছে যে, দ্রুত ভাড়া সমন্বয় করা না হলে অনেক মালিক লোকসানের মুখে পরিবহন সেবা বন্ধ করে দিতে পারেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি কারিগরি কমিটি বর্তমান ব্যয় বিশ্লেষণ করে নতুন ভাড়ার প্রস্তাবনা তৈরি করবে, যা পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিবহন কোম্পানি বা ব্যক্তি যেন নিজ উদ্যোগে ভাড়া বৃদ্ধি না করেন, সে বিষয়ে তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের পক্ষ থেকেও দাবি জানানো হয়েছে যেন ভাড়া বৃদ্ধির হার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং কোনোভাবেই যেন নৈরাজ্য সৃষ্টি না হয়।