খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি।
এনসিপি পাঁচটি দাবিনির্ভর এজেন্ডা তুলে ধরলেও অন্যান্য দলগুলোর সাথে কিছু বিষয়ে মতানৈক্য রয়ে গেছে। তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে জামায়াত ও বিএনপির অবস্থান ইতিবাচক বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৪ মে) রাতে রাজধানীর যমুনা বাসভবনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ড. ইউনূসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিও পুনরায় জানিয়েছি, যেটি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। এছাড়া, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনের ধীরগতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।”
তিনি আরও জানান, “শেখ হাসিনার শাসনামলে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোকে আমরা বিতর্কিত মনে করি। তাই সেগুলোকে আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছি।”
এনসিপি দাবি করেছে, গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র প্রতিনিধিরা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন এবং তারা জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন।
একইদিন সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, “সাড়ে ১৫ বছর ধরে মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। এবার তারা স্বাধীনভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করতে চায়। আমরা চাই, সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা হোক — তাহলে সবকিছু স্বাভাবিক হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা কোনো উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করিনি। তবে যদি প্রয়োজন হয়, তা জানানো হবে। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সবার কথা শুনছেন, এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “সংস্কার শেষ হলে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে বা রোজার পরপরই নির্বাচন হতে পারে।”
এদিকে বিএনপিও তাদের পক্ষ থেকে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে। যদিও দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে দলটির নেতারা জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানায়।
সার্বিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি ও অবস্থানে পার্থক্য থাকলেও, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী সব পক্ষ।