খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
কম্বোডিয়ার বিমা বাজারে এক অদ্ভুত বিপরীতমুখী চিত্র ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির বিমা খাতে মোট প্রিমিয়াম বা আয়ের পরিমাণ বাড়লেও গ্রাহকদের বিমা পলিসি বা চুক্তি করার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটর অব কম্বোডিয়া’ (আইআরসি) ২০২৬ সালের মে মাসের যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে এই খাতের একটি বড় পরিবর্তনের চিত্র সামনে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে কম্বোডিয়ার বিমা বাজারে মোট প্রিমিয়াম বা প্রদেয় কিস্তি বাবদ আয় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। আগের বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মোট বিমা প্রিমিয়াম ১ দশমিক ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আয়ের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির উল্টো পিঠে বিমা পলিসির সংখ্যা কমে গেছে প্রায় ৫১ শতাংশ।
বিমা খাতের এই আয়ের খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধান দুটি খাতেই ভালো ব্যবসা হয়েছে। জীবন বিমা (লাইফ ইন্স্যুরেন্স) খাত থেকে প্রদেয় কিস্তি ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। অন্যদিকে সাধারণ বিমা (জেনারেল ইন্স্যুরেন্স) খাত থেকে আসা প্রিমিয়াম ১ দশমিক ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো পলিসির সংখ্যা কমে যাওয়া। গত বছরের মে মাসে যেখানে কম্বোডিয়ায় মোট বিমা পলিসির সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৮টি, সেখানে ২০২৬ সালের মে মাসে তা ৫০ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ লাখ ৭ হাজার ৩৬৬টিতে। এর মধ্যে সাধারণ বিমার পলিসি সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাতটিতে চুক্তি বা পলিসির সংখ্যা ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৫৭৩টিতে। জীবন বিমার ক্ষেত্রেও এই পতনের হার বেশ বড়; পলিসির সংখ্যা ৪৫ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৮২ হাজার ৭৯৩টিতে নেমে এসেছে।
পলিসি কমলেও মোট ঝুঁকিপূর্ণ বিমাকৃত অর্থের (টোটাল সাম ইনশিওর্ড) পরিমাণ কিন্তু উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের ৯ দশমিক ৭২ বিলিয়ন (৯৭২ কোটি) ডলারের বিপরীতে এবার মোট বিমাকৃত অর্থ ১৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (১,১৩২ কোটি) ডলারে। এর মধ্যে সাধারণ বিমার আওতায় বিমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বড় লাফ দেখা গেছে জীবন বিমায়; এই খাতে বিমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৩ দশমিক Break২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে। এর থেকে স্পষ্ট যে, বাজারে ছোট ছোট গ্রাহকের সংখ্যা কমলেও বড় অঙ্কের বা দামি পলিসির সংখ্যা বেড়েছে।
এদিকে গ্রাহকদের দাবি মেটানোর ক্ষেত্রে বা গ্রস ক্লেইমসের দিক থেকে বিমা কোম্পানিগুলোর খরচ কিছুটা বেড়েছে। মে মাসে মোট বিমা দাবির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। সাধারণ বিমার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারের দাবি মেটাতে হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। বিপরীতে জীবন বিমার ক্ষেত্রে বিমা দাবির পরিমাণ ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে ১৭ লাখ ১০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে।
সাধারণ বিমার বাজারের বড় অংশই দখল করে রেখেছে সম্পত্তি বা প্রপার্টি ইন্স্যুরেন্স। মে মাসের মোট প্রিমিয়ামের ৩৬ দশমিক ২০ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে। এরপরেই রয়েছে মোটরযান বা ভেহিকেল ইন্স্যুরেন্স, যা মোট আয়ের ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিমা (হেলথ ইন্স্যুরেন্স) ১৯ দশমিক ৬২ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, পরিবহন বিমা ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিমা ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ অবদান রেখেছে। অন্যান্য ছোটখাটো বিমা পণ্য থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তবে কৃষি বিমার অবদান ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ এবং গবাদিপশু বিমার ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। বিমা পলিসি কমে যাওয়ার এই প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।