খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফসলি জমিতে কাজ করার সময় পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে দুই কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফটিকছড়ি বিল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই কৃষকই উপজেলার পার্শ্ববর্তী ভূজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে প্রতিবেশী ছিলেন।
নিহতরা হলেন—ভূজপুর ইউনিয়নের মীরের খীল এলাকার মাহবুব আলমের ছেলে ইউনুস (৪৫) এবং একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে হাশেম (৪৮)। এই দুই কৃষকের আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে মীরের খীল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরে ইউনুস ও হাশেম ফটিকছড়ি বিলে ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে ওপর দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের একটি মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে সরাসরি কাদা ও পানিতে ভরা ধানক্ষেতে পড়ে। বিলের পানিতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়লে জমিতে কাজ করতে থাকা দুই কৃষক মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই ছটফট করতে করতে তাদের মৃত্যু হয়। দূর থেকে অন্য কৃষকেরা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে যান। তবে ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা কাঠ ও শুকনো বাঁশের সাহায্যে সাবধানে তাদের মরদেহ কাদা থেকে উদ্ধার করেন এবং স্বজনদের খবর দেন।
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ও ভূজপুর থানা পুলিশের পৃথক দল এবং সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “দুর্ঘটনাটি ফটিকছড়ি থানা সীমানার ভেতরে ঘটলেও নিহত দুই ব্যক্তি আমার থানা এলাকার বাসিন্দা। তাদের মরদেহ ইতিমধ্যেই নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে কিংবা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ক্ষেত্রে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করছি।”
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফটিকছড়ি জোনাল অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তাদের টেকনিক্যাল টিম ওই এলাকার ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কী কারণে সচল লাইনের তারটি ছিঁড়ে পড়ল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। লাইনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্ষাকাল ও বৈরী আবহাওয়ার সময় ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক সময় লাইনের ওপর গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে যেতে পারে। কোথাও এমন ছেঁড়া তার মাটিতে বা পানিতে পড়ে থাকতে দেখলে কেউ যেন তার কাছাকাছি না যান। এমন পরিস্থিতি দেখামাত্রই দূর থেকে দ্রুত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। সামান্য সচেতনতাই এমন বড় ধরনের প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা এড়াতে পারে।