খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
দিনাজপুরের হিলিতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। অভাবের তাড়নায় দুই কন্যাসন্তানকে রাস্তার পাশে বসিয়ে রেখে নিখোঁজ হয়েছেন এক মা। ‘তোরা এখানে থাক, আমি টাকা নিয়ে আসি’—একথা বলে আর ফিরে আসেননি তিনি। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে হিলি স্থলবন্দরের চার নম্বর গেটের সামনে থানা মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাটি পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সকাল দশটার কিছু আগে তিনি হিলি বন্দরের চার নম্বর গেটের কাছে একটি অফিসের বারান্দায় দুটি ছোট মেয়েকে একা বসে কাঁদতে দেখেন। দীর্ঘক্ষণ তাদের কেউ নিতে না আসায় তিনি এগিয়ে যান এবং কান্নার কারণ জানতে চান। তখন শিশুরা তাকে জানায়, তাদের মা তাদের ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে কোথাও চলে গেছে। যাওয়ার সময় বলে গেছে, ‘তোরা একটু থাক, আমি টাকা নিয়ে আসি।’ কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাদের মা আর ফিরে আসেনি। মোয়াজ্জেম হোসেন শিশুদের শান্ত করার জন্য কিছু খাবার কিনে দিলেও মায়ের জন্য তারা না খেয়ে কেবলই কাঁদছিল। কোনো উপায় না দেখে তিনি বিষয়টি হাকিমপুর থানা পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে হাকিমপুর থানার পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছায় এবং শিশুদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। শিশুদের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন ঘটনার বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশু দুটির নাম জিমি ও জান্নাতি। তাদের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায়। তাদের বাবা জীবন চরম মাদকাসক্ত এবং বর্তমানে তিনি পরিবার ছেড়ে ঢাকায় থাকেন।
মাদকাসক্ত বাবার কারণে পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অভাব-অনটন চলছিল। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া মায়ের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে মা শাহনাজ বেগম তার ছোট সন্তানকে নিজের কাছে রেখে বড় দুই মেয়েকে হিলি বন্দরের ব্যস্ত রাস্তার পাশে রেখে যান। যাওয়ার সময় তিনি শিশুদের অপেক্ষা করতে বলেছিলেন, কিন্তু এরপর আর ফিরে আসেননি।
ওসি জাকির হোসেন আরও জানান, শিশু দুটির দাদা-দাদি এখনও জীবিত রয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘোড়াঘাট এলাকায় তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। আইনি প্রক্রিয়া ও পারিবারিক সত্যতা নিশ্চিত করে শিশুদেরকে তাদের দাদা-দাদির কাছে নিরাপদ হেফাজতে হস্তান্তর করা হবে। এর পাশাপাশি, সন্তানদের ফেলে যাওয়া অসহায় ও নিরুপায় মায়ের সন্ধান পাওয়ার জন্যও পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। শিশুদের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে থানা হেফাজতে তাদের খাবার ও মানসিক সান্ত্বনা দেওয়া হচ্ছে।