খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৪ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সোতাশি এলাকায় সোমবার বেলা তিনটার দিকে এক ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় তিনজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় রেলক্রসিংয়ে অরক্ষিত অবস্থায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। নিহতদের মধ্যে দুইজন একই পরিবারের ভাই এবং একজন নারী রয়েছেন।
বিলকরাইল গ্রামের ছায়ফার মোল্লার ছেলে জব্বার মোল্লা
একই গ্রামের মুছা মোল্লা
আবুল কালামের স্ত্রী জাহানারা বেগম
দুর্ঘটনার সময় তারা জনতা জুট মিল-এর কাজ শেষে মোট ১৫ জন শ্রমিককে নিয়ে বোয়ালমারী পৌর সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে সোতাশি এলাকায় পৌঁছালে কালুখালী থেকে ভাটিয়াপাড়া যাওয়া লোকাল ট্রেনটির সঙ্গে তাদের শ্রমিকবাহী পিকআপটি ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, বাকিদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী বিলায়েত হোসেন জানান, “আমাদের বাড়ির সামনে ঘটে দুর্ঘটনা। বাজার থেকে ফিরেই দুপুরের খাবারের জন্য বসেছি। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে যাই। দেখি ট্রেনের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ, তিনজন মারা গেছেন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
| নাম | বয়স (আনুমানিক) | লিঙ্গ | অবস্থান | চিকিৎসা কেন্দ্র |
|---|---|---|---|---|
| জব্বার মোল্লা | ৩৫ | পুরুষ | নিহত | – |
| মুছা মোল্লা | ৩০ | পুরুষ | নিহত | – |
| জাহানারা বেগম | ৪২ | নারী | নিহত | – |
| আহত ৫ জন | ২৫–৪০ | পুরুষ/মহিলা | গুরুতর আহত | ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ |
| আহত ৫ জন | ২০–৫০ | পুরুষ/মহিলা | হালকা আহত | বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
স্থানীয়রা জানান, এই রেলক্রসিংয়ে পূর্বেও অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত সতর্কবার্তা ও সিগন্যাল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। রেলপথ ও সড়কপথের মিলিত ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দুর্ঘটনা প্রমাণ করছে, অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও সিগন্যাল ব্যবস্থার অভাব এখনও বড় সমস্যা। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
মন্তব্য