খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কার্যত ছেলেখেলায় পরিণত করল নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসের দুই ‘অভাগা’ দলের লড়াইটি যতটা রোমাঞ্চকর হওয়ার কথা ছিল, ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তা হয়ে উঠল একেবারেই একপেশে। প্রোটিয়াদের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্যকে নিউজিল্যান্ড স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। এই জয়ের মাধ্যমে ২০২১ সালের পর আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল কিউইরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে থাকা ফিন অ্যালেন ইডেনের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শককে এক অবিশ্বাস্য ইনিংস উপহার দিলেন। ইনিংসের দশম ওভার শেষে যখন জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের ৪৬ রান প্রয়োজন, তখন অ্যালেন একাই তান্ডব শুরু করেন। পরবর্তী মাত্র ১৭ বলে দলের ৪২ রান একাই তুলে নিয়ে নিজের শতরান পূর্ণ করেন তিনি। অ্যালেন যখন জয়সূচক বাউন্ডারিটি মারেন, তখন দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১ রান আর তার সেঞ্চুরির জন্য ৪ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন এই হার্ডহিটার।
| দল | রান/উইকেট | ওভার | প্রধান পারফরমার |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | ১৬৯/৬ | ২০.০ | মার্কো ইয়ানসেন (৫৫*), ক্রিস্টিয়ান স্টাবস (২৯) |
| নিউজিল্যান্ড | ১৭৩/১ | ১২.৫ | ফিন অ্যালেন (১০৩*), টিম সাইফার্ট (৫৮) |
| ফলাফল | নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী | – | – |
নিউজিল্যান্ডের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেনের উদ্বোধনী জুটি। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারেই তারা স্কোরবোর্ডে ৮৪ রান যোগ করেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পাওয়ারপ্লের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। সাইফার্ট ৩৩ বলে ৫৮ রান করে কাগিসো রাবাদার বলে বোল্ড হলেও অ্যালেনকে থামানো যায়নি। অন্যপ্রান্তে রাচিন রবীন্দ্র ১১ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থেকে অ্যালেনকে যোগ্য সঙ্গ দেন। মাত্র ১২.৫ ওভারেই জয়ের লক্ষ্য পার করে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বিশ্বকে এক সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল।
এবারের বিশ্বকাপে একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে সেমিফাইনালে পা রেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তাদের টপ অর্ডার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ৪২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ১০ ওভার শেষে ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল প্রোটিয়ারা। ষষ্ঠ উইকেটে ক্রিস্টিয়ান স্টাবস ও মার্কো ইয়ানসেনের ৪৭ বলে ৭৩ রানের জুটি দলকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। বিশেষ করে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইয়ানসেনের ৩০ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংসটি ছিল প্রশংসনীয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাত বা তার নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে ফিফটি করার এটি মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘চোকার’ অপবাদ ঘোচানোর স্বপ্ন আবারও ধূলিসাৎ হয়ে গেল। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড তাদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়ে আবারও ট্রফি জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ফিন অ্যালেনের এই ইনিংসটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ‘ক্লিন হিটিং’-এর নিদর্শন হিসেবে গণ্য হবে। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালে কিউইদের এই রুদ্রমূর্তি অন্য কোনো দল আটকাতে পারে কি না।